• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ডিমলায় ভোজ্যতেলে তেলেসমাতি, লিটরে কম ২০০ মিলি

সিসি নিউজ ।। ভোজ্যতেলের বাড়তি দামে যখননিম্ন-মধ্যবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদেরও নাভিশ্বাস অবস্থা।তখন সবচেয়ে বেশি ‘তুঘলকী’ অবস্থা চলছে নীলফামারীর ডিমলায়। নিম্নমানের ভোজ্যতেল ওজনে কম দিয়ে ক্রেতা ঠকানোর তুমুল প্রতিযোগিতায় নেমেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে নিম্নমানের ভোজ্যতেলে সয়লাব। পরিমাণে লিটার প্রতি ২০০ মিলি লিটার কম দেওয়া হলেও তদারকির ব্যবস্থা অপ্রতুল বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

জানা যায়, এ অঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই)-এর অনুমোদন বিহীন বেশ কটি কোম্পানি বিভিন্ন নামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডে ভোজ্যতেল (সয়াবিন তেল) বাজারজাত করে আসছে। প্রতিটি ব্র্যান্ডের প্যাকেজেই তেলের পরিমাণ কম হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৫০০ মিলি তেলের বোতলে ৪২০ মিলি মিটার, ১ লিটারের বোতলে ৮০০ মিলি লিটার ও ২ লিটারের বোতলে ১৭০০ মিলি মিটার করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

লিটারের পরিবর্তে মিলিলিটার লেখার নিয়ম না থাকলেও  কিছু কোম্পানি ১ লিটার বোতলের গায়ে ৯০০ মিলি স্টিকার লাগিয়ে বাজার মূল্যে বাজারজাত করছে। এসব তেলের বিএসটিআইর অনুমোদন না থাকলেও বোতলের গায়ে বিএসটিআইর স্টিকার ঠিকই লাগানো আছে। এভাবেই প্রতারিত করা হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

সূত্রমতে, বগুড়া,নীলফামারীসহ পঞ্চগড় জেলার গহীন গ্রামে এসব কারখানা গড়ে উঠেছে। আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে। এমনি একটি কোম্পানি গড়ে উঠেছে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার মাঝগ্রামে ‘ভাই- বোন এন্টারপ্রাইজ’। এ কোম্পানি স্টার ও পইলট নামে সয়াবিন ও পাম ওয়েল বিক্রি করছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোম্পানির প্রোপাইটর ইউসুফ আলী জানান, ‘বিএসটিআই-র অনুমোদন নেই। তবে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি। এখন পরীক্ষামূলকভাবে বাজারজাত করছি। বাজার থেকে খোলা তেল কিনে বাড়িতেই বোতলজাত করেন বলে জানান তিনি। একই পদ্ধতিতে বাজারজাত করছে মেসার্স প্যারেন্টস অয়েল এন্টারপ্রাইজ নামে নাইচ, চমক, চয়েস নামে সয়াবিন ও পাম তেল। ইসলাম এন্ড ব্রাদার্সের রূপসা ও রূপসা গোল্ডসহ নামে বেনামে অনেক কোম্পানি।

তেলের পরিমাণ কম থাকা প্রসঙ্গে প্যারেন্টস অয়েল কোম্পানির পরিচালক ইব্রাহিম আজিজ বলেন, পাইকারি ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই পরিমাণে তেল কম করেই আমরা বোতল প্যাক তৈরি করছি ।বোতলে তেল কম না দিলে তাঁরা তেল নিতে চায় না।আমাদের কাছে পরিমাণ অনুযায়ী তারা কম মূল্যে নেয় কিন্তু বিক্রির সময় তারা বাজার দামে বিক্রি করে তাঁরা বেশি মুনাফা করে।এটা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের।

এ ব্যাপারে নীলফামারী জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, বোতলের গায়ে লিটারের জায়গায় মিলিলিটার লেখার কোনো সুযোগ নেই।বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছি। সামনে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে কেউ পার পাবে না। এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ