সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর ডোমারে ট্রেনের টিকিট বিক্রয়ে কালোবাজারি বন্ধ এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (০২ এপ্রিল) সকালে ডোমার বাজার রেলগেট মোড়ে ডোমারবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সাংবাদিক, রাজনৈতিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে কাউন্সিলর রুবেল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কাউন্টারে টিকিটের জন্য গেলে টিকিট পাওয়া যায়না আবার কালোবাজারীদের কাছ থেকে চড়া দামে টিকিট পাওয়া যায়। তিনি আরো বলেন এর সাথে ষ্টেশনের লোকজন জড়িত রয়েছে। তাদের সহযোগীতায় কালোবাজারীরা চড়াদামে টিকিট বিক্রি করছে।
সাংবাদিক ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন বলেন, আমি টিকিটের জন্য একদিন সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাড়িয়ে ছিলাম তারপরও টিকিট না পেয়ে চলে যাই। পরে বেশি দাম দিয়ে কালোবাজারীর কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।
জামিয়ার নামে এক শিক্ষক জানান, চিলাহাটিতে টিকিটের জন্য ভোর থেকে লাইনে দাড়িয়ে সকাল ৯টায় বলে সব টিকিট কাটা শেষ। অথচ তারা কাউকে টিকিট দ্য়েনি। ফলে বাধ্যহয়ে কালোবাজারীদের কাছ থেকে ৫শত টাকার টিকিট ৯শত টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হয়েছে। মাছুম আহম্মেদ বলেন, টিকিট কাউন্টারে পাওয়া যায়না অথচ কালোবাজারীরা ষ্টেশনে বসেই একাধিক টিকিট বিক্রি করছে তাহলে তারা টিকিট কোথায় পেল।
আপেল নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক জানান, কালোবাজারে টিকিট বন্ধের জন্য সংবাদ পরিবেশন করলে টিকিট কালোবাজারীর একজন দম্ভ করে আমাকে বলেন, নিউজ করার পর টিকিটের ব্যবসা আরো জমজমাট হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ডোমারে ট্রেনের টিকিট অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কালোবাজারিদের হাতে যায়। আর কালোবাজারিরা চড়া দাম হাঁকিয়ে বিপাকে ফেলে সাধারণ যাত্রীদের। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কাউন্টারে গেলে টিকিট শেষ, এমন ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অসাধু কালোবাজারিদের নির্মূল করার উদাত্ত আহ্বান রইলো।
এছাড়া রেল খাতের সীমাহীন দুর্নীতি বন্ধ করে সাধারণ যাত্রীদের সুন্দর রেলভ্রমণ উপহারের দাবী জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে ডোমার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রুবেল ইসলাম’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ডোমার প্রেসক্লাবের সভাপতি আসাদুজ্জামান চয়ন, ডোমার পৌর কৃষক লীগের আহ্বায়ক মো. আবু সাঈদ, ডোমার প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এমদাদুল হক মাসুম, সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন সোহাগ, ইয়াসিন মোহাম্মদ সিথুন, প্রতিবাদী ডোমারবাসীর সুমন আহম্মেদ, সাবেক ছাত্রনেতা সোহেল রানা, ‘হৃদয়ে ডোমার’ এর সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের উপজেলা প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম আপেল, ছাত্রনেতা আজমির রহমান রিশাদ প্রমূখ। এতে সঞ্চালকের দায়িত্ব¡ পালন করেন ‘হৃদয়ে ডোমার’ এর সাধারণ সম্পাদক রাকিব আল আকাশ।
উল্লেখ্য, ১৮৭৮ সালে চালু হওয়া ডোমার রেলওয়ে স্টেশনে বর্তমানে ৫টি আন্তঃনগর ও ১টি মেইল ট্রেন প্রতিনিয়ত চলাচল করে। ঢাকাগামী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ও খুলনা গামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস এবং সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট বিড়ম্বনায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডোমার রেল স্টেশনের বরাদ্দ করা আসন সংখ্যার তুলনায় যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। চাহিদার তুলনায় কম আসন থাকায় যাত্রীদের বাধ্য করে অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনতে হয়।
স্টেশন মার্কেটের বিভিন্ন দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে কালোবাজারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্টেশন মাস্টারদের একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও তারা কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। কালোবাজারিরা স্টেশনের বুকিং সহকারীর সহযোগিতায় টিকিট সংগ্রহ করে চড়া দামে সাধারণ যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছেন বলে জানান এলাকাবাসী। তাদের দৌরাত্ম্যের কাছে যাত্রীরা জিম্মি।
ট্রেনের যাত্রীদের বড় একটি অংশ অনলাইন সুবিধার বাইরে। বেশিরভাগ সময় অগ্রিম টিকিটের জন্য কাউন্টারে যোগাযোগ করেও টিকিট পাওয়া না যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে কালোবাজারে টিকিট কাটতে হয়। কালোবাজারিচক্র অনলাইনে সক্রিয় হয়ে একযোগে টিকিট কেটে নেয় বলে অভিযোগ যাত্রীদের। ডোমার স্টেশনসহ চিলাহাটি, নীলফামারী, সৈয়দপুর ও পার্বতীপুর স্টেশনের নীলসাগর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির কাছে মজুদ থাকে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক যাত্রী।