• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

নড়বড়ে সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধ

।। এস এম জামান ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে খড়খড়িয়া নদীর শহর রক্ষা বাঁধটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বাঁধের ওপর দিয়ে বালুবাহী ট্রাক ও বাঁধের গোড়ার মাটি দুর্বৃত্তরা কেটে নেয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৬০ বছর পুরনো বাঁধটির ১৫ কিলোমিটার জুড়ে কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক স্থানে ভাঙ্গনের ঝুঁকি রয়েছে। আসন্ন বর্ষা মওসুমে বন্যার পানির স্রোতে ওই বাঁধের কোথাও ভাঙ্গন দেখা দিলে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছে শহরবাসী।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের চান্দিয়ার ব্রীজ থেকে শুরু করে সৈয়দপুর পৌর এলাকার ১০নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাটোয়ারীপাড়া হয়ে পার্বতীপুরের বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের শেষ সীমানা পর্যন্ত শহর রক্ষা বাঁধ। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের কারণে সৈয়দপুর শহরের সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাগুলো বর্ষা মওসুমে বন্যার পানি থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু বাঁধ ভেঙ্গে গেলে ওইসব স্থাপনা পুরোপুরি হমুকির মুখে পড়ার আশংকা রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানের সৈয়দপুর বিমানবন্দর, সেনানিবাস, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, ১৫০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, বাংলাদেশ আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সৈয়দপুর সরকারি কলেজ, বিসিক শিল্পনগরী, সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, সৈয়দপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, হাসপাতালসহ ছোট-মাঝারি শিল্প কারখানা ভয়াবহ প্লাবন জোনে অবস্থান করছে।

সূত্রমতে, বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার পানি ঢুকলে ওই স্থাপনাগুলো কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শহরের স্থাপনাগুলো। ভৌগলিকগত অবস্থানের কারণে নদীর প্লাবন স্তর থেকে সৈয়দপুর শহরের ওই স্থাপনাগুলো স্থান ভেদে তিন থেকে ছয় ফুট নিচে অবস্থান। নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় বর্ষা মওসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি খড়খড়িয়া নদী আগের মত আর ধারণ করতে পারে না। ফলে সহসাই বাঁধ উপচে বন্যার পানি শহরমুখে ধাপিত হয়। ওই নদীতে রয়েছে অনেক বাঁক, প্রস্থ অনেক কম। কিন্তু বর্ষাকালে থাকে তীব্র স্রোত। আর অনেক বাঁক থাকার কারণে তীব্র বেগে ধাবিত পানির স্রোত সরাসরি আঘাত হানে শহর রক্ষা বাঁধে। এতে করে বাঁধের জীবনীশক্তি কমে গেছে। এজন্য নদীটি সোজাকরণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

শহরের কুন্দল এলাকার বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা মোস্তফা ফিরোজ জানান, খড়খড়িয়া নদীর শহর রক্ষা বাঁধটি টেকসই করতে হলে নদী সোজাকরণ যুগের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করে হলেও নদী সোজা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তাদের মতে নদীটি সোজা করে শহর রক্ষা বাঁধটি কংক্রিট দিয়ে বাঁধাই করা হলে এ জনপদের মানুষ বর্ষাকালে নিশ্চিন্ত ঘুমাতে পারবে।

শহর রক্ষা বাঁধের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সৈয়দপুর পওর বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সৈয়দ মো. আমিনুর রশিদ জানান, প্রতিবছর বর্ষাকালে বন্যার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আগেই খড়খড়িয়া নদীর পানি বাঁধ উপচে শহরে প্রবেশ করে। সে সময় জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ দিয়ে পানি আটকিয়ে সরকারি বেসরকারি স্থাপনা রক্ষা করা হয়। উজানের পাহাড়ি ঢলের ফলে প্রতি বছর ৪/৫বার বিপদসীমা অতিক্রম করে বন্যার পানি। তার মতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নার্থে পাকা ব্লক দিয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হলে অন্ততঃপক্ষে ১০০ বছরে বাঁধের কোন ক্ষতি হবে না।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, ওই বাঁধটি টেকসই করার জন্য আমরা ডিপিপির প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছি। সঠিক সময়ে তা বাস্তবায়ন হবে। তিনি আরো জানান, বাঁধের গোড়ার মাটি কেটে নেয়ার বিষয়ে প্রতিনিয়ত তদারকি করা হচ্ছে। এছাড়াও বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে বর্ষার পূর্বেই মেরামতের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ