সিসি নিউজ ।। পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া নীলফামারীর ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদকে পুণঃবহাল করা হলে আমরণ অনশনের হুমকি দিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে তোফায়েল আহমেদকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্যপদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে দ্রুত অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানরা অংশগ্রহন করেন। মানববন্ধন শেষে সেখানে সমাবেশে ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার এম এ কবিরের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জসিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার কানু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহবায়ক আল আমিন রহমান, সংগঠনের পৌর আহ্বায়ক আজিজুর রহমান, ডোমার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্য মো. আসাদুজ্জামান চয়ন প্রমুখ।
পরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার এম এ কবির।
মানববন্ধন, সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যহতি পাওয়া তোফায়েল আহমেদ যুদ্ধাপরাধী রাজাকারের সন্তান। গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সরকারি কর্মসূচিতে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে তিনি অসদাচরণ করেন। এর জেরে গত ৩১ মার্চ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তোফায়েল আহমেদকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) সাখাওয়াত হেসেন শফিক উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হকের যৌথ স্বাক্ষরে অব্যাহতি পত্র জারি করা হয়।
কিন্তু সম্প্রতি একটি মহল তোফায়েল আহমেদকে ওই পদে পুণঃবহালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। ওই ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য পদ থেকেও অপসারণ দাবি করা হয়। অন্যথায় আমরণ অনশন কর্মসূচির হুমকি দেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তোফায়েল আহমেদ নিজেকে পুণঃবহালের আবেদন করলে আমরা (সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) তাতে সুপারিশ দিয়েছি।’
উল্লেখ্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীর সন্তানের অভিযোগ তোলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানরা। এরপর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন জাতীয় দিবসের পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করায় বাধ সাধেন তাঁরা (বীর মুক্তিযোদ্ধা)। এমন বিতর্কে ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদের অংশগ্রহন থাকায় অনুষ্ঠান বর্জণ অব্যাহত ছিল মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানদের। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠানে বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে অনুষ্ঠান বর্জণ করেন মুক্তিযোদ্ধাসহ তাঁদের সন্তানরা।