সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুর প্লাজার ফ্রেন্ড জুস বার নামক একটি চাইনিজ হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে তিন যুবককে পৃথক মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। আজ মঙ্গলবার
(৩১ মে) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. শামীম হুসাইন ওই কারাদন্ড প্রদান করেন।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুরে সৈয়দপুর প্লাজার তৃতীয় তলায় অবস্থিত ফ্রেন্ড জুস বার নামক একটি রেস্তোরাঁয় আকস্মিক এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সেখান থেকে ছয় জন যবকযুবতীকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমান আদালতে আটককৃত তিন যুবককে হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে পৃথক মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। সাজাপ্রাপ্তরা হচ্ছে, দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পাকেরহাটের হামিদুল ইসলামের ছেলে মো. আশরাফুল (১৯), একই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. সোহান (২১) এবং পার্বতীপুরের রোস্তম আলীর ছেলে মহিম ইসলাম (২৭)। এদের মধ্যে আশরাফুল ও সোহানকে তিন দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং মহিম ইসলামের সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। আর আটককৃত তিন যুবতীকে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. শামীম হুসাইন ওই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। তবে অভিযানে সময় হোটেল মালিক কৌশলে দ্রুত সটকে পড়ে। এ সময় ফ্রেন্ড জুস বার নামক চাইনিজ রেস্তোরাঁটি সীলগালা করে দেয়া হয়। এ সময় সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাহিদুর রহমান ও ইন্দ্র মোহন রায়সহ পুলিশ সদস্যরা সহায়তা দেন।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান, হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে তিন যুবককে সাজা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কারাদন্ড প্রাপ্তদের নীলফামারী জেল হাজতে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের অত্যাধুনিক সুপার মার্কেট সৈয়দপুর প্লাজার তৃতীয় তলায় বেশ কিছু ফাস্ট ফুড দোকান ও চাইনিজ হোটেল – রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। আর দীর্ঘদিন যাবৎ এ সব ফাস্ট ফুড দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁয় নানা রকম অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছিল। এ সব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে কয়েক দফা ওই সব ফাস্ট ফুড দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁয় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় শহরের অভিজাত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ কপোত-কপোতিকে আটক করা হয়। পরে তাদের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জেল জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য অনেক হোটেল রেস্টুরেন্ট সীলগালাও করে দেয়া হয়। কিন্তু ওই সব হোটেল রেস্তোরাঁর মালিককে বার বার সর্তক করা সত্ত্বেও সে সবের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হয়নি। আর তাই বেশ কিছুদিন যাবৎ ওই সব হোটেল রেস্তোরাঁর ওপর কঠোর নজরদারি করছেন সৈয়দপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।