
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।। নীলফামারীর ডিমলায় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবরে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে ৫ দিন ধরে অবস্থান করছেন আখি আক্তার (২৩) নামে এক কলেজছাত্রী।ঘটনা বেগতিক দেখে দুই বউকে রেখে উধাও প্রতারক স্বামী ।গত শুক্রবার (২৮ মে) দুপুর থেকে উপজেলার উত্তর আকাশকুড়ি গ্রামে স্বামী এহছানুল রাহাদের (২৭) বাড়িতে অবস্থান করছেন আখি।
বিবাহ নিবন্ধন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের মেয়ে আঁখি আকতার ও নাউতারা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি গ্রামের রফিজুল ইসলামের ছেলে রাহাদ ৪ বছর আগে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আখি নীলফামারীতে সম্মান শ্রেণীতে লেখাপড়া ও রাহাদ ঢাকার নারায়ণগঞ্জে ঝুট কাপড়ের ব্যবসা করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০১৮ সালের ১৭ জুলাই ঢাকার গাইবান্ধা পুরসভার ওয়ার্ডের কাজী অফিসে ২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে আখি ও রাহাদ বিয়ে করেন (রেজি: নং ২/১৫)। এ সময় বিয়ের বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানানোর জন্য আখিকে চাপ দেন রাহাদ।
বিয়ের ৪ বছর পার হলেও বিষয়টি কাউকে জানাননি আখি। কিন্তু রাহাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করেন আখি। কিন্তু আখির কথায় রাজি না হয়ে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা করতে থাকেন।১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন রাহাদ।
একপর্যায়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম বিয়ে গোপন রেখে পারিবারিক ভাবে ঢাকার নারায়নগন্জে চুপিসারে দ্বিতীয় বিয়ে করেন রাহাদ। গত শুক্রবার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসেন তিনি। দ্বিতীয় বিয়ের খবর পেয়ে প্রথম স্ত্রী আখি তার স্বামীর বাড়িতে আসলে তাকে মানসিক রোগী আখ্যা দিয়ে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেয় রাহাদের বাড়ির লোকজন। এ সময় আখি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে পরিবারের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হয়। কিন্তু কোন প্রকার সমঝোতা না হওয়ায় স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেন আখি।
এদিকে, আখির উপস্থিতি টের পেয়ে দুই স্ত্রীকে রেখেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন রাহাদ।এ অবস্থায় রাহাদের ঘরের বারান্দাতে অবস্থান করছেন আখি।
আখি বলেন, বিয়ের কথা গোপন রেখে স্বামী-স্ত্রী মিলে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করেছি। এখন আমাকে স্ত্রী বলে অস্বীকার করছে। তাই আমি রাহাতের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছি। স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে এ বাড়িতেই আত্মহত্যা করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাহাতের বাবা রফিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আমার ছেলে বিয়ে করেছে এ কথা আগে জানলে আমি দ্বিতীয়বার তার বিয়ে দিতাম না। ছেলে আমার সাথে প্রতারণা করেছে। তবে আমি দুজনকেই পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিয়েছি।
দ্বিতীয় স্ত্রীর ভগ্নিপতি রুবেল জানান, রাহাদকে ব্যাবসায়ীক সুত্রে ১১ বছর ধরে চিনি। সে বিবাহিত একথা গোপন করেন প্রতারনা মাধ্যমে আমার শ্যালিকাকে বিয়ে করেছে। আমরা এর বিচার চাই।
ইউপি চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রাহাদ মোবাইল ফোনে দুই বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন।
ডিমলা থানার তদন্ত কর্মকর্তা(ওসি) বিশ্বদেব রায় জানান, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।