• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক চা শ্রমিকদের

সিসি নিউজ ডেস্ক।। মজুরি বাড়ানোর দাবিতে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে চার দিন কর্মবিরতি পালন করেছেন চা শ্রমিকেরা। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়ায় আগামীকাল শনিবার থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) নৃপেন পাল।

নৃপেন পাল বলেন, ‘প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে দেশের চা শ্রমিকেরা মাত্র ১২০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। এছাড়া দুই বছর পর পর শ্রমিকদের সঙ্গে মালিক পক্ষের চুক্তি হয়। কিন্তু বিগত চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে ১৯ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও নতুন চুক্তি করছে না মালিক পক্ষ।’

নৃপেন পাল আরও বলেন, ‘গত মাসে মালিক পক্ষ আমাদেরকে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। আমরা সেটি প্রত্যাখ্যান করে গত মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে চার দিন কর্মবিরতি পালন করেছি। এতে মালিক পক্ষের কোনো সাড়া পাইনি। তাই আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাগানে কাজ করা বন্ধ ঘোষণা করেছি। দাবি না মানা পর্যন্ত শ্রমিকেরা বাগানে ফিরবে না। প্রয়োজনে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেব।’

হবিগঞ্জের ২৪টি বাগান নিয়ে লস্করপুর ভ্যালি। এখানে মোট চা শ্রমিক রয়েছেন ৩৫ হাজার। এর মধ্যে স্থায়ী শ্রমিক ২৭ হাজার এবং অস্থায়ী ৮ হাজার।

আমু চা বাগানের শ্রমিক মিনতি সন্তুবায় বলেন, ‘আমরা সারা দিন চাবাগানে কাজ করে মাত্র ১২০ টাকা মজুরি পাই। যা দিয়ে দুই কেজি চালও কিনতে পারি না। এক লিটার তেলের দাম ২০০ টাকা। ছেলেমেয়ে সাধ-আহ্লাদও পূরণ করতে পারি না। মা বাবা হয়ে যদি ছেলে মেয়ের সাধ-আহ্লাদ পূরণ করতে না পারি তাহলে বেঁচে থেকে লাভ কী? এর চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।’

বাংলাদেশ চা কন্যা নারী সংগঠনের সভাপতি খায়রুন আক্তার বলেন, ‘দেশে সব জিনিসের দাম হু হু করে বাড়ছে। অথচ চা শ্রমিকেরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করে ১২০ টাকা মজুরি পায়। দুই কেজি সবজি কিনতেই এই টাকা চলে যায়। তাই শ্রমিকদের বাঁচানোর স্বার্থে মজুরি ৩০০ টাকা করতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু মালিক পক্ষ কোনো সাড়া দিচ্ছে না।’

চান্দপুর বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সাধন সাওতাল বলেন, ‘চা শ্রমিকেরা দেশের ভোটার হয়েও অবহেলিত। মৌলিক অধিকারও তাঁদের ভাগ্যে জোটে না। এছাড়া রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে দিনে মজুরি মাত্র ১২০ টাকা। এভাবে আমরা চলতে পারছি না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে বাগান বন্ধ করে দিয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাগানে ফিরব না।’

উৎস: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ