সিসি নিউজ।। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)সহ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মোঃ রনি ইসলাম। অথচ তার মুখে হাসির বদলে দুশ্চিন্তার ছাপ। পারিবারিক আর্থিক অনটনের কারণে উচ্চশিক্ষার আশা তাঁর পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে তাঁর।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে ব্রম্মত্তোর বানিয়াপাড়া এলাকার হতদরিদ্র লুৎফর রহমান ও মোতাহারা বেগমের ছেলে মোঃ রনি ইসলাম । বাবা একসময় কাঠমিস্ত্রির কাজ করলেও হ্নদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় পর থেকে কাজ করতে পারেন না। মা গৃহিনী। বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। তাঁরা চার ভাই ও এক বোন। বাবা অসুস্থ হওয়ার পর দিনমজুর বড় ভাই সংসারের হাল ধরেছেন।
রনি স্থানীয় সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। স্কুলজীবন থেকেই মেধাবী ছাত্র তিনি। পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতেও জিপিএ-৫ রয়েছে তাঁর। সংসারে চরম আর্থিক কষ্টের সঙ্গে লড়াই করে তাঁকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে বুটেক্সের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ৫১৯ তম স্থানে রয়েছেন রনি। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুচ্ছ ইঞ্জিনিয়ারিং, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তবে রনির ইচ্ছে বুটেক্সে পড়ার।
স্কুল ও কলেজজীবনে শিক্ষকেরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু আর্থিক অভাবের কারণে তাঁর উচ্চ শিক্ষার খরচ বহন করা সম্ভব নয় পরিবারের পক্ষে। জীবনসংগ্রামের স্মৃতিচারণা করে রনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে বেড়ে ওঠেছি। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করে যে সামান্য আয় করতেন তা দিয়ে কোনোরকম সংসার চলতো। কিন্তু বাবা অসুস্থ হওয়ার পর তাও বন্ধ হয়ে যায়। এর পর বড় ভাই সংসারের হাল ধরেন। আমাদের ছোট ভাইবোনের পড়ালেখার জন্য বিয়েও করেননি তিনি।
রনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ব। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি। সাফল্যও এসেছে। কিন্তু এখন আর্থিক দৈন্যের কারণে সে ইচ্ছে পূরণ হবে কি না, জানি না। কোথায় পাব টাকা, কে দেবেন টাকা? কে চালাবেন পড়ার খরচ।’
রনির বাবা লুৎফর রহমান বলেন, ৮ বছর আগে হ্নদরোগে আক্রান্ত হই। এখন আর সেভাবে কাজ করতে পারিনা। অভাবী সংসারে আমাদের এক ছেলের আয়ে কোনোরকমে খাবার জোটে। বাড়তি কোনো টাকা নেই যে সেই টাকা দিয়ে ছেলেকে ভর্তি করাব। নিজের জমিজমা নেই। শুধু রয়েছে বাসতভিটা। ছেলের পড়াশোনায় খরচ জোগান দিতে না পেরে খুব কষ্ট লাগছে।’
রনির মা মোতাহারা বেগম বলেন, অভাব-অনটন লেগেই আছে সংসারে। ছোট ছেলেমেয়েগুলো কোনোরকমভাবে পাড়ালেখা করছে। এখন নিরুপায় হয়ে আছি। কোনোভাবেই রনির ভর্তিসহ অন্যান্য খরচ বহনে টাকা জোগাড় করতে পারছি না। কিছু নেই যে তা বিক্রি করব।’
কথা হয় রনির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জুয়েলের সাথে। তিনি বলেন, শুধু পড়ালেখায় নয়, সব দিক দিয়েই রনি খুব ভালো ছেলে। তাঁর অদম্য ইচ্ছা শক্তিই তাঁকে এ সফলতা এনে দিয়েছে। আমরা শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে তাকে সহযোগিতা করেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী, এখন তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের দরিদ্রতা। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারত সে ।’