সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এদিকে ঘন কুয়াশার সাথে ঠান্ডা বাতাসে নাকাল হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষজন। আজ বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস, যা এই মৌসুমে নীলফামারী জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্যমতে, গতকাল বুধবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে সকাল ৯টায় তা কমে গিয়ে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। পরে তাপমাত্রার নেমে গিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ও ৯টায় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সেই সাথে সৈয়দপুরসহ এ অঞ্চলে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ১২ কিলোমিটার বেগে ঠান্ডা বাতাস বইছে। ঘন কুয়াশার কারনে সকাল ১০টায় দৃষ্টিসীমা মাত্র ৪০০ মিটার রয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
শৈত্যপ্রবাহে দুর্ভোগ বেড়েছে এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষদের। শীতের তীব্রতার হাত থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বালিয়ে উত্তাপ নিচ্ছে মানুষজন। গোবাদি পশুপাখিদের মধ্যে ত্রাহি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চট বা বস্তা দিয়ে তাদের শরীর ঢেকে রাখছে মালিকরা।
সকাল ১০টায় সৈয়দপুর শহরের বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরে কথা হয় রিক্সাচালক মন্টু আলীর সাথে। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোন যাত্রী রিক্সায় উঠেনি। তাছাড়া বাতাস ও ঠান্ডায় শহরে লোকজনের চলাফেরা অনেক কম। অধিকাংশ দোকানপাট এখনও বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, ঠান্ডায় রিক্সা চালানো খুব কষ্ট। পরিজনের মুখের দিকে তাকিয়ে বের হতে হলো।
এদিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ লোকমান হোসেন মৃদু শৈত্যপ্রবাহের বিষযটি নিশ্চিত করে বলেন, ঘন কুয়াশায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর রানওয়েতে সকাল ১০টায় দৃষ্টিসীমা ছিল ৪০০ মিটার যা ফ্লাইট উঠানামার জন্য প্রযোজ্য নহে। অবশ্যই রানওয়ে এলাকায় সর্বনিন্ম দৃষ্টিসীমা থাকতে হবে ২ হাজার মিটার। তবে দুপুরের মধ্যে এ ঘন কুয়াশা কেটে যাবে বলে তিনি জানান।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর ম্যানেজার সুপ্লব কুমার ঘোষ জানান, শীতকালে ঘন কুয়াশার কারনে প্রায়ই সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বিঘ্ন ঘটছে। তবে দুপুরের মধ্যে কুয়াশা কেটে গিয়ে তা স্বাভাবিক হওয়ায় কোন ফ্লাইট বাতিল করা হয়না।