সিসি নিউজ।। ঘরের আসবাবপত্র, পড়নের পোষাক ও বইপত্র আগুনে পুড়ে যাওয়ায় নির্বাক হয়ে পড়েছে নওশিন আকতার। পাঁচ সদস্য পরিবারটির ভরণপোষনের দায়িত্বে থাকা মেয়েটি চোখেমুখে এখন হতাশার ছাপ। নতুন করে বাসা নির্মাণ করার অর্থজোগাড় করতে যেখানে কষ্টসাধ্য ব্যাপার, সেখানে বইপত্র কিনে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাঁর।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়ায় একটি অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যে পুড়ে যায় কোয়াটারের ৫টি পরিবার। ওই পরিবারের মধ্যে বৃদ্ধ কায়সার আলীর মেয়ে নওশিন আকতার। আগুনে পুড়ে গেছে জামা-কাপড় ও তাঁর পড়ার বইপত্র।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় নওশিনের সাথে। রংপুর মডেল কলেজের সমাজ বিজ্ঞানে অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী নওশিন আকতার। পড়াশোনার পাশাপাশি সৈয়দপুর শহরের ‘রেড চিলি’ নামের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার হিসেবে পার্ট টাইম চাকুরী করে। এখান থেকে প্রাপ্ত বেতন দিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মা ও আরো দুই বোনসহ ৫ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষন করে থাকে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে নওশিন জানায়, সামনে রমজানের পর বড় বোন চাঁদনী আকতারের বিয়ে। এ সময় এমন ঘটনায় বাবা-মা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। এদিকে জামা-কাপড় ও আসবাবপত্রের সাথে বইপত্র পুড়ে যাওয়ায় খুব কষ্ট পাচ্ছি। সামনে ফাইনাল পরীক্ষা। বাসা মেরামত করার মতো টাকা নেই আমার হাতে, সেখানে বইপত্র কেনা এবং বাসযোগে সৈয়দপুর থেকে রংপুরে যাওয়া-আসা করা আর সম্ভব নয়। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে নওশিন বলেন, লেখাপড়ায় ছেড়ে দিতে হবে অবশেষে।
সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টাফ কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জামান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়া রেলওয়ে কোয়াটারে অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়। প্রাথমিক ধারনায় সর্ট সাকিট থেকে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে যায় ৫টি পরিবারের সম্পুন্ন মালামাল। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোয়াটারের আরো বেশ কয়েকটি পরিবার। তবে ক্ষতি নিরুপণে ফায়ার সার্ভিস দল কাজ করছে।
পৌরসভার কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম জানান, আগুনের সূত্রপাত হয় জনৈক জাহেদা বেগমের বাড়ি থেকে। পরে খবর পেয়ে সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিসসহ নীলফামারী, উত্তরা ইপিজেড ও রংপুরের তারাগঞ্জে ছয়টি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে পুড়ে যায় জাহেদা বেগম, আরবি হোসেন, উকিল আহমেদ, শরফরাজ আলী ও শাহিন হোসেনের বাসার সম্পুন্ন মালামাল। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি তাঁদের প্রায় কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল রায়হান জানান, চাঁদনীর বিয়ে ও নওশিনের পড়াশোনা চালানোর বিষয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।