সিসি নিউজ।। বিয়ে বাড়িতে খাবারের অনুষ্ঠানে বরের লোকজনকে মাংস কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বরপক্ষ ও কনেপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বরের বাবা নুর মোহাম্মদ (৫০) নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার আমরুলবাড়ী এলাকায় । এ ঘটনায় কনের বাবা আনারুল ইসলাম ও স্থানীয় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত নুর মোহাম্মদ রংপুর সদরের হাজিরহাট উত্তম বাওয়াই পাড়া বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, পারিবারিক ভাবে শুক্রবার রাতে জলঢাকা পৌর এলাকার আমরুলবাড়ী গ্রামের বগুলাগাড়ী এলাকার আনারুল ইসলামের মেয়ে জান্নাতুল আক্তারের বিয়ের দিন ধার্য্য ছিল। বর জোনাব আলী রংপুর নগরীর উত্তম হাজিরহাট বাওয়াই পাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে। রাত সাড়ে ১২টায় বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর কনে নিয়ে চলে যায় বর জোনাব আলী। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে কনে বাড়িতে বরের পক্ষ থেকে একশ জন অতিথি আসার কথা থাকলেও প্রায় আড়াই’শ অতিথি উপস্থিত হয়। এতে খাওয়ার সময় বরের পক্ষের লোকজন মাংস কম পাওয়ায় বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় কনে পক্ষের লোকজনের মারধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হয়ে পড়েন বরের বাবা নুর মোহাম্মদ। পরে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ১টার দিকে মারা যান তিনি। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয় পুলিশ।
স্থানীয় হাসান বিন হাসিব বলেন, বিয়ের কার্যাদি শেষে কনে নিয়ে আগেই চলে যায় বর। বরের বাবা পরের গাড়িতে যাওয়ার সময় কনের বাবাকে বলেন মাংস কম হয়েছে ও আপ্যায়ন কম হয়েছে। এই কথা বলায় কনের পক্ষের সাথে বর পক্ষের কথাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বরের বাবাকে মারধর করে কনের পক্ষের লোকজন।
জলঢাকা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবীর বলেন, মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারী সদরে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বরের পরিবারের পক্ষ্য থেকে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে । তবে এ ঘটনায় কনের বাবাসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।