• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

আমরা কোন ষড়যন্ত্র কিংবা বন্দুকের নলে ক্ষমতায় আসিনি- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিসি নিউজ।। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীরমুবিক্তযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন,‘আমরা দেশের জনগণের শক্তিতে চলি। আমরা কোন ষড়যন্ত্র কিংবা বন্দুকের নলে ক্ষমতায় আসিনি। আমরা এসেছি ভোটের মাধ্যমে, জনগণের রায়ের মাধ্যমে। আমি সারা বাংলাদেশ ঘুরি, সরা বাংলাদেশে একটিই দল, সেটি হলো শুধুমাত্র শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন আলোকিত থাকবে বাংলাদেশ।
নীলফামারীতে পুলিশ লাইন্স মাঠে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে তিনি একথা বলেন।
আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবেনা, এমনকি নির্বাচন হতে দেবেনা বিভিন্ন সভা সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জের ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় তারা নির্বাচন প্রতিহত করেছেন, সবসময় তারা প্রতিহত করে জনগণের ধিক্কারে পরিণত হয়েছেন। আমরা দেখেছি তারা বন্দুকের নল এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসছেন। আওয়ামী লীগ জনগণের রায়ে ক্ষতায় আসে। জনগণ আমাদের পক্ষে থাকলে আমরা আর কিছু চিন্তা করি না। কে কি কললো বা কে কি চোখ রাঙ্গালো, কোথায় বসে ষড়যন্ত্র করলো সেগুলো আমাদের দেখার বিষয় না। আমাদের দেখার বিষয় দেশের জনগণ কাকে চায়।’
তিনি আরও বলেন,‘আমি যেখানেই দেখি সেখানেই একই আওয়াজ-একই শ্লোগান, শেখ হাসিনার বিকল্প কিছু নেই। আমরা তাই মনে করি, বঙ্গবন্ধুর কন্যা আবারও ক্ষমতায় আসবেন। আবারও দেশ এগিয়ে যাবে, আলোকিত থাকবে বাংলাদেশ। ২০৪১ সালে আমরা উন্নত বাংলাদেশে পরিণত হবো।’
বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শের কথায় তিনি বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সবসময় বলে থাকেন যে আমি শুধু বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ এবং তিনি যেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছিলেন সেগুলি করে যাচ্ছি। আজকে দেখছি সেগুলোই বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে আমরা আর পিছিয়ে নেই। আমরা সারা পৃথিবীর একটা উন্নত জাতির দেশ হতে যাচ্ছি। ২০৪১ সালে আমরা উন্নত বাংলাদেশ নিশ্চয় হবো মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বে। কারণ তিনি বঙ্গবন্ধুর আর্দশে আদর্শিত হয়ে দেশ চালাচ্ছেন।’
পুলিশবাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,‘বঙ্গবন্ধু তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে বলেছিলেন, তোমরা জনগণের পুলিশ হও। তোমরা দেশের উপনিবেশিক আমলের পুলিশ না, তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ। আজকে পুলিশ সেই জায়গাটিতে আসছে। পুলিশ মানুষের আস্থার জায়গায়, বিশ^াসের জায়গায় চলে এসেছে। আমরা আগে পুলিশ দেখেলে সরে যেতাম, আগে পুলিশ মানেই একটা যন্ত্রণা আমেদর কাছে মনে হতো। আজকে সেটি উল্টোটা হয়ে গেছে।’
মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘সেদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। জানতেন নিশ্চিত মৃত্যু, জানতেন পাকিস্তান আর্মির মতো একটা সুশিক্ষিত আর্মির সঙ্গে যুদ্ধ করা চারটিখানি ব্যাপার না। তাঁরা বাড়ি ফিরবেন কি ফিরবেন না, সেটা চিন্তা করেন নাই। বাড়ি পুড়িয়ে দিবে, শ্মশান বানিয়ে দিবে সেইটাও চিন্তা করেন নাই এই মুক্তিযোদ্ধারা, সেজন্যই আমরা পেরেছিরলাম। সেজন্যই আমরা নয় মাসের যুদ্ধে এই বর্বর পাকিস্তানীদেরকে গুরিয়ে দিয়ে স্বাধীন করতে পেরিছলাম দেশটাকে। আজকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা আমাদেরকে সবকিছু দিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধার ভাটাও একটা সন্মানজনক করেদিয়েছেন। ২০ হাজার টাকা করে ভাতা দিচ্ছেন, মৃত্যুবরণ করলে সরকারি কায়দায় সন্মানিত করছেন। যত ধরণের সুযোগ সুবিধা সবগুলি তিনি দিয়েছেন।’
জয় বাংলা শ্লোগান মুক্তিযুদ্ধের শক্তি উল্লেখ করে বলেন,‘ আমাদের কাছে কোন অস্ত্র ছিল না। অস্ত্র ছিল একটাই জয় বাংলা শ্লোগান। এই জয় বাংলার ডাক শুনলেই পাকিস্তানীদের হৃদ কম্পন শুরু হতো, সেই জয় বাংলাটা আজকে আমাদের জাতীয় শ্লোগানে পরিণত হয়েছে সেজন্য আমি মানীয় প্রধানমন্ত্রীকে সেলুট জানাই। আমাদের জয়ের শ্লোগান আপনি জয়ের শ্লোগান বানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় জয় বাংলা যে শ্লোগানটা দিয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম। ক্ষমতা থেকে আমাদেরকে যখন বিভিন্ন কায়দায় অপসারিত করা হলো তখন জয় বাংলা শ্লোগান নাকি হিন্দু হিন্দু লাগে সে জন্য এটি বাদ দিয়ে আবার বাংলাদেশ জিন্দাবাদে চলে গিয়েছিল।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা দেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীম, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষের উদ্বোধনী বক্তব্যে ওই সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মমতাজুল হক, নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।
প্রধান বক্তার বক্তার বক্তৃতায় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন,‘মুক্তিযোদ্ধাদের অনন্য অসাধারণ অবদান নিয়ে আলোচনার প্রযোজন আছে বলে আমি মনে করি না। যাঁরা স্বাধীন বাংলাদেশে বিশ্বাস করেন, যাঁরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করেন, যারা মুক্তিযুদ্ধোর চেতনায় বিশ্বাস করেন, তাঁদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের অবদান সব সময় স্মরনীয় এবং শ্রদ্ধার বিষয়। আর যারা আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না, পাকিস্তানি ভাবধারায় নিজেদের রাজনীতিকে পরিচালনা করেন, তারা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেন না।’
নূর আরো বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর বাংলাদেশের ইতিহাস উল্টো পথে হেটেছে অনেকদিন। ইতিহাস বিকৃত হয়েছে, পাঠপুস্তক বিকৃত হয়েছে, আমাদের সন্তানরা ভুল ধারণা নিয়ে বড় হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই অন্ধকার যুগের অবসান ঘটেছে বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে।’
এর আগে বিকাল সোয়া চারটার দিকে নীলফামারী পুলিশ সুপার কার্যালয় চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালের ফলক উম্মোচন করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ