সিসি নিউজ।। জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ কল দেওয়ার ১১ ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পৌছালো পুলিশ। এতে জাতীয় সেবার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগিরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর সরকারপাড়ায়।
সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উল্লেখিত এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আতিয়ার রহমান ওরফে আবু সায়েদ। শুক্রবার রাত পৌনে ৩টার দিকে তাঁর বাড়ির ভেতরে রাখা একটি ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সায় দুর্বৃত্তরা পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এসময় বাড়ির গৃহবধু সূর্যি আকতার বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে বাড়ির ও পাড়ার লোকজন এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া বোতলে রাখা কিছু পেট্রোল ও একটি দিয়াশলাই পাওয়া যায়।
এরপর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ঘটনাটি জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ কল দিয়ে অবগত করেন গৃহকর্তার ছেলে আদর আলী (২৮) ও প্রতিবেশী মজিদুল ইসলাম (৩৫)। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরী সেবা থেকে নিকটস্থ থানার সাথে যোগোযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে তাদেরকে জানানো হয়। এ সময় তাদের জরুরী সেবা থেকে সৈয়দপুর থানার ডিউটি অফিসারের নম্বর ০১৩২০১৩৫৪০৭ প্রদান করা হয়।
প্রতিবেশী মজিদুল ইসলাম বলেন, জরুরী সেবা থেকে পাওয়া নম্বরে কল দিয়ে বিষয়টি অবগত করা হয়। তখন অপর প্রান্ত থেকে ঘটনাটি শুনে পুড়ে যাওয়া অটোরিক্সা ও বিভিন্ন আলামতের ছবি এবং ভিডিও তুলে রাখতে বলা হয়।
আজ শনিবার বেলা দুইটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় অটোরিক্সার মালিক গৃহকর্তার ছেলে শহিদুল হকের (৩৪) সাথে। তিনি বলেন, আমরা জানি যে কোন দূর্ঘটনায় জাতীয় জরুরী সেবায় ফোন করলে পুলিশ তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু আমরা ৯৯৯ কল করার ১১ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেননি।
তিনি সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির মধ্যে বিরোধে প্রতিপক্ষরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে পক্ষটি গ্রামের বিভিন্ন মানুষজনকে নানা রকম হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করেছে। ফলে গ্রামের মানুষজন এখনো চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে।
এ সময় উপস্থিত ভুক্তভোগির ছোট ভাই বরকত আলী বলেন, মানুষের বিপদে-আপদে এ সেবা যদি কোন কাজে না আসে, তাহলে কিসের এটা জরুরী সেবা ? এতে করে মানুষ জরুরী সেবার ওপর তাদের আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ থেকে থানায় কোন ফোন আসেনি। ভুক্তভোগিরা রাতে থানার ডিউটি অফিসারকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে ছিল। কিন্তু দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও সেহরীর সময় হওয়ার কারণে রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ যেতে পারেনি।
উল্লেখ্য, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর সরকারপাড়ায় একইস্থানে অবস্থিত তছির উদ্দিন দারুস সালাম হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও কলি মিয়া জামে মসজিদের কমিটি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে।
গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর সৈয়দপুর থানার দু’জন পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। এদের মধ্যে ওয়াজেদুল ইসলাম বাবু (৩৫) নামে একজন মুসুল্লী আহত হওয়ায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এনিয়ে উভয়পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে।