ফরিদুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)।। ঘোড়াঘাট উপজেলাতে রমজান উপলক্ষে বাড়ছে আখের রসের চাহিদা। ইফতারের সময় পানির তৃষ্ণা নিবারণের জন্য অনেকেই বেছে নিচ্ছেন আখের রস ও ডাবের পানি । তৃষ্ণা পিপাসুদের মতে, পৃথিবীতে যত পানীয় পাওয়া যায় তার মধ্যে আখের রস ও ডাবের পানিই সবচেয়ে নিরাপদ। তাই ইফতারের সময় কোমল পানীয়র বদলেও তারা বেছে নেন আখের রস ও ডাবের পানি।
সারাদিনের ক্লান্তিকে মুক্তি দিতে আখের রসের জুড়ি নেই এক চুমুকেই ক্লান্তি দূর হয়ে দেহে আসে সতেজতা। তাই রমজান আসলে ইফতারে অন্যান্য খাবারের সাথে যোগ হয় আখের রস। প্রচ- তাপদাহে বিভিন্ন শরবত ও কোমল পানীয়র পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে চাষাবাদ ও নির্ভেজাল হওয়ায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার প্রায় প্রতিটি ঘরে ইফতারে চাহিদা বেড়েছে আখের রসের। কারণ, অন্যান্য পানীয়র তুলনায় আখের রস শতভাগ নিরাপদ।
তাই দুপুর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত সহজলভ্য এই পানীয় কিনে নিচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঘোড়াঘাট উপজেলার এই রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ১০ টি জায়গায় বিক্রি হয় আখের রস। যা প্রতি গ্লাস ১০ টাকা করে বিক্রি হয়ে থাকে। আখের রস বিক্রেতারা বিভিন্ন স্থান থেকে আখ সংগ্রহ করে থাকে। পরে গাড়ির মাধ্যমে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে বিভিন্ন হাটে বাজারে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা গেছে, তিনচাকার ভ্যানের উপর বসানো হয়েছে আখ থেকে রস বের করার যন্ত্র। যন্ত্রটিকে ঘুরাতে তার সাথে সংযোজন করা হয়েছে ছোট একটি মটর। যন্ত্রটির একপাশ দিয়ে খোসা ছাড়ানো আখ ঢুকিয়ে দেওয়ার পরে যন্ত্রটির সাহায্যে চাপ প্রয়োগে বের করে আনছেন রস। মেশিনের একপ্রান্ত দিয়ে রস বের হয়ে পড়ছে মগে। পরে মগে জমা হওয়া রস ছাকনির সাহায্যে ছেকে নিচ্ছেন রস বিক্রেতা। রস বের করে আনার পরে, আখের রস কিনতে আসা ক্রেতাদের বোতল ঢেলে দিচ্ছেন রস। কেউবা আবার রসের মগ হাতে নিয়ে ইফতারের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।
আখের রস কিনতে আসা সাদিয়া বলেন, বাজারের সব জিনিসেই ভেজাল। কিন্তু আখের রসটাই খাটি। তাছাড়া রোজা রাখার পরে আখের রসে দারুন তৃপ্তি দেয়। আমার পরিবারে ইফতারের প্রতিদিন অন্যান্য খাবারের সাথে আখের রস থাকেই।
রস বিক্রেতা আব্দুল্লার সাথে তিনি বলেন, প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি ও শীতল হওয়ায় আখের রস রোজাদারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ রস পানের মধ্য দিয়ে একটা আলাদা অনুভূতি পায় রোজদাররা। যখন মেশিনের মাধ্যমে আখগুলোকে চেপে রস বের করা হয়, তখন তার সঙ্গে কিছুটা বরফ ও লেবুর রস দিয়ে দেওয়া হয়। এতে রসের স্বাদ আরও বেড়ে যায়।