সিসি নিউজ।। আজ ১২ এপ্রিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্থানীয় শহীদ দিবস। দিবসটি পালনে প্রজন্ম-৭১সহ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে উপজেলার সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ভবনের শীর্ষে কালো পতাকা উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ, স্থানীয় শহীদ স্মৃতি অম্লানে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে সারা দেশে পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণের বিরুদ্ধে ২৫ মার্চ কালরাতে লড়াই শুরু হলেও সৈয়দপুরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ২৪ মার্চ। সৈয়দপুর উপজেলা সদরকে ‘নিউ বিহার’ হিসেবে ঘোষণা দেয় এখানে অবাঙালিরা। অবাঙালি অধ্যুষিত সৈয়দপুরে সেনানিবাস থাকায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে অবাঙালিদের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের সহায়তায় একশ্রেণির অবাঙালি সৈয়দপুর শহর ছাড়াও অন্যান্য এলাকায় লুটতরাজ ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এর স্মৃতিচিহ্ন সৈয়দপুরে এখনো বিদ্যমান। ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স মাঠে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈয়দপুরে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য জিকরুল হকের নেতৃত্বে সৈয়দপুরে সব বাঙালি এক কাতারে শামিল হয়।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিভিন্ন সময় তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ডাঃ জিকরুল হক, তুলসীরাম আগরওয়ালা, ডাঃ সামছুল হক, ডাঃ বদিউজ্জামান, ডাঃ ইয়াকুব আলী, রেলওয়ে কর্মকর্তা আয়েজ উদ্দিন, যমুনা প্রসাদ কেডিয়া, রামেশ্বরলাল আগরওয়ালা, নারায়ণ প্রসাদ প্রমুখকে ধরে সৈয়দপুর সেনানিবাসে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। এরপর ১২ এপ্রিল রংপুর সেনানিবাসের উত্তর পাশে নিসবেতগঞ্জ বধ্যভূমিতে চোখ বেঁধে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়া ১৯৭১ সালের ১৩ জুন সৈয়দপুর শহরে সবচেয়ে বড় গণহত্যা হয়। এ দিন শহরের ৪৭৮ জন মাড়োয়ারি পরিবারের সদস্যকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার নামে ট্রেনে তোলা হয়। রেলওয়ে কারখানার উত্তর প্রান্তে সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে তাঁদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়। শিশুদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
প্রজন্ম ৭১-এর সদস্য ও শহীদ পরিবারের সন্তান সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ১২ এপ্রিল সৈয়দপুরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় শহীদ দিবস পালন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনের শীর্ষে কালো পতাকা