সিসি নিউজ।। ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকে নীলফামারীর অবাঙ্গালী অধ্যুষিত শহর সৈয়দপুরে চলছে বিয়ের ধুম। এ শহরের পাড়া-মহল্লা ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে বাজছে বিয়ের সানাই। ঈদের ছুটিকে ঘিরে গত ৭দিনে এ উপজেলা শহরে আয়োজন হয়েছে সহস্রাধিক বিয়ের। এতে বিউটি পার্লার, ফুলের দোকান, কার-মাইক্রোবাসের মালিক, ভিডিও ব্যবসায়ী, কাপড়-গহনার দোকানসহ বিয়েকেন্দ্রিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে।
জানা যায়, নাড়ির টানে ঈদের ছুটিতে বাসা-বাড়িতে ফিরেছেন সবাই। টানা ছুটিতে আত্মীয়-স্বজনকে একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগে চলছে বিয়ের ধুম। সম্প্রীতির বন্ধনে ঈদকেন্দ্রিক বিয়ের এ আনন্দ যেন সংস্কৃতি অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে অবাঙ্গালীদের মধ্যে এ মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার রেওয়াজ দীর্ঘ দিনের।
শহরের সুলতান নগরের ড্রিম প্লাস হোটেল এন্ড রিসোর্ট-এর স্বত্ত্বাধিকারী তহিদার রহমান তৌহিদ জানান, ঈদের পরদিন থেকে প্রতিদিন ২-৩টি করে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৫ মে পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বুকিং রয়েছে। তিনি বলেন, শহরে ১০টি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। সবগুলো প্রতিষ্ঠানে আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত বুকিং রয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানে দৈনিক ২ থেকে ৩টি বিয়ের কার্যাদি সম্পন্ন হচ্ছে।
সৈয়দপুর প্লাজাস্থ আতিয়ার ভিডিও এন্ড ফটোগ্রাফির ক্যামেরাম্যান রাকিব হোসেন জানান, ঈদের পরদিন থেকে দিন-রাত সমানতালে বিয়ের অনুষ্ঠান ভিডিও রেকর্ডিং করতে গিয়ে হাপিয়ে উঠছি। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের ভিডিও করতে কমপক্ষে দুই-তিন দিন সময় লাগছে। গায়ে হলুদ, বিয়ে ও বিবাহ পরবর্তী অনুষ্ঠানের জন্য এ সময়টা ব্যয় হয়। শহরে ৬০ জন ভিডিও ম্যানের পাশাপাশি পাশ্ববর্তী উপজেলা শহরের ভিডিও ম্যানকে ভাড়া করে আনা হচ্ছে।
সৈয়দপুর পৌরসভা সড়কের চৈতী বিউটি পার্লারের স্বত্ত্বাধিকারী রেজোয়ানা ইসলাম জানান, মূলত ঈদের দিন থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবস্তা থাকবে। এ পার্লারে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে কনের সাজ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সৈয়দপুর শহরে দেড় শতাধিক বিউটি পার্লার রয়েছে। সবগুলো পার্লারে এখন উপচেপড়া ভীড়।
নীলফামারী জেলা কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপ সমিতির সভাপতি মোনায়েম হোসেন জানান,শুধু সৈয়দপুর শহরে কার ও মাইক্রোবাস রয়েছে ৫শতের অধিক। ঈদের পর থেকে বিয়ে অনুষ্ঠানের ভাড়ায় চলছে এসব কার ও মাইক্রোবাস। তিনি বলেন, আগামী ৫ দিন পর্যন্ত বিশেষ করে বর পক্ষের সাথে বাহনগুলো চুক্তিবদ্ধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ফুল, কাপড় ও জুয়েলার্স দোকান, ক্যাটারিং সার্ভিস, বাবুর্চি, মাংস বিক্রেতা, ডেকারেটর সহ বিয়েকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তিরা ব্যস্ত সময় পার করছে। এদিকে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে হিমশিমে পড়েছে জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ ও সুধীজনদের।
সৈয়দপুর নিকাহ্ ও তালাক সমিতির সভাপতি কাজী সাইদুর রহমান বলেন, সৈয়দপুর পৌর এলাকায় ৭টি কাজী অফিস রয়েছে। ঈদের পরদিন থেকে এসব অফিসগুলোতে বিয়ের রেজিস্ট্রি বেড়েছে। কনে পক্ষের হিসেব অনুযায়ী ইতিমধ্যে প্রায় ৫ শতাধিক বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া শহরের বেশির ভাগ ছেলেদের বিয়ে অন্য জেলায় বা গ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আমাদের কাছে ওই হিসেবটা থাকে না। পৌর শহরের বাইরে ইউনিয়নগুলো মিলে এ পর্যন্ত সহস্রাধিক বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।