• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

মালয়েশিয়ায় অপহরণের শিকার নীলফামারীর যুবক: ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি

সিসি নিউজ।।  পাঁচ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত নীলফামারীর জলঢাকার যুবক খাইরুল ইসলাম। মায়ের অসুস্থতার কথা জেনে চলতি সপ্তাহে বাড়ি ফেরার কথা তাঁর। এরমধ্যে খায়রুলকে অপহরণ করা হয়েছে। আর এ অপহরনের অভিযোগ উঠেছে মালয়েশিয়ায় কর্মরত তার ছয় সহকর্মীর বিরুদ্ধে। অপহরণকারীরা খায়রুলের মুক্তির জন্য ২০ লক্ষ টাকা দাবী করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

খাইরুল ইসলাম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার দক্ষিন দেশীবাড়ি রাজারহাট এলাকার মো. আব্দুল হামিদের ছেলে।

পারিবারিক সুত্রমতে, ২০১৮ সাল থেকে মালয়েশিয়ার এফজিভি হোল্ডিংসে কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন খাইরুল। মায়ের অসুস্থতার জন্য ছুটি নিয়ে দেশে আসবেন- এমনটি ২২ জুলাই বাড়িতে জানায় খায়রুল। এর দুইদিন পরে সোমবার (২৪ জুলাই) দুপুরে মালশিয়ায় কর্মরত তার সহকর্মীর মোবাইল থেকে জানানো হয় খাইরুল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। এমন খবর পেয়ে মালয়েশিয়ায় পরিচিতদের সাথে যোগাযোগ করে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা চালায় খাইরুলের পরিবার।

আজ মঙ্গলবার ভোরে মুঠোফোনে কল দিয়ে অপহরণের বিষয়টি জানান খাইরুল নিজেই। সে জানায়, তার ছয় সহকর্মী একটি জঙ্গলে তাকে আটকে রেখে ২০ লক্ষ টাকা চেয়েছেন। নইলে তাকে হতা করে জঙ্গলেই ফেলে রাখার হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় অপহৃত খাইরুল ইসলামের সাথে।

সে জানায়, আমার সহকর্মীরা একটা জঙ্গলে বেধে রাখছে। আমি তিন দিন কিছু খাইনি। তারা ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন চাইছে। এখানে জাহাজ ছাড়া দেখার কিছু নাই। এটা আমার অফিসের আশেপাশেই হবে। আমার মোবাইল থেকে শুরু করে সব কেড়ে নিছে। এটা একটা পুরাতন ফোন পকেটে ছিল। এটা না থাকলে কারো সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারতাম না। গত ৩ দিনের মধ্যে ২ দিন আমার সহকর্মীরা আসছিল আমার কাছে। আজ আসে নাই। এভাবে না খেয়ে থাকলে আমি শেষ হয়ে যাবো।

ছেলের এমন খবর পাওয়ার পর থেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা, স্ত্রী ও স্বজনেরা। ছেলেকে হারানোর ভয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন খাইরুলের মা ছবিলা বেগম। দ্রুত খাইরুলকে উদ্ধার করে দেশে ফিরে আনার দাবি জানান পরিবারের লোকজন।

খাইরুলের ছোট বোন হালিমা বেগম বলেন, আমার বড় ভাই ৫ বছর আগে গেছেন মালয়েশিয়ায়। আমার ভাইকে তার ৬ বন্ধু পারভেজ, তপু, সামিউল, রুহুল, মনজু, ও ছোটন অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা দাবী করেছে। টাকা না দিলে ওরা আমার ভাইকে মেরে ফেলবে। আমাদের দাবী খায়রুলকে দেশে ফিরে আনা হোক। আর যারা এই কাজ করেছে তাদের শাস্তি দেওয়া হোক।

এদিকে এফজিভি হোল্ডিংসে কোম্পানিতে চাকুরীরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ হৃদয় মুঠোফোনে নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তাঁরা খায়রুলের সহকর্মীদের আটক জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার গোলাম সবুর বলেন, মিসিং এর বিষয়টি মালয়েশিয়ায় হওয়ায় এদেশ থেকে তা বুঝতে পাওয়া কঠিন। বিষয়টি দেশের হলে জিডি করলে আমরা খতিয়ে দেখতাম। তারপরও তার পরিবারের লোকজন থানা একটা সাধারণ ডায়েরী করার পরামর্শ দেন। এছাড়া পরিবারের লোকজন খায়রুলের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করতে বলেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ