
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি।। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিদেশি সবজি স্কোয়াস চাষ করে সফলতা পেয়েছেন হামিদুল ইসলাম নামের এক চাষি।
কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় শীতকালীন সবজির পাশাপাশি ২০শতক জমিতে স্কোয়াস চাষ করে তিনি লাভবান হয়েছেন।
উপজেলায় তার মতো আরও ১৪ জন চাষি এই ফসল চাষ করে সাফল হয়েছে।
উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের ছোট ভিমলপুর গ্রামের চাষি হামিদুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর ধরে তিনি তার জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলাচ্ছেন। এর মধ্যে উপজেলা কৃষি দপ্তরের সহযোগীতায় গ্রীষ্মকালীন পিয়াজ চাষ করে তিনি প্রথম সফলতা লাভ করেন। এরই মধ্যে উপজেলা কৃষি দপ্তরের পরামর্শ ও সহযোগীতায় ৬০০ স্কোয়াসের বীজ সংগ্রহ করেন। এরপর তার ২০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে জমিতে স্কোয়াস চারা রোপণ করেন। প্রায় দেড় মাস পর ফল আসতে শুরু করে। বিদেশি স্কোয়াস গাছ একদম মিষ্টি কুমড়ার মতো। পাতা, ডগা, কান্ড দেখে বুঝার উপায় নেই যে, এটি মিষ্টি কুমড়া নাকি স্কোয়াস গাছ। হামিদুল ইসলাম জানান “প্রায় ২০ শতক জমিতে এই বিদেশি সবজি চাষ করেছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পরিচর্যা করেছি। আমি এই প্রথম চাষ করছি, তাই পরিচর্যা বুঝতে একটু সময় লেগেছে। তবে একটি স্কোয়াস বাজারে ২০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হওয়ায় বেশ লাভ হয়েছে। যা ওই জমি থেকে স্বল্প জমিতে স্বল্প খরচে করা অন্য ফসল করা সম্ভব হতো না। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন স্কোয়াশ চাষে অধিক লাভ হওয়ায় আগামীতে আমি আরও বেশি জমিতে এই বিদেশি সবজি স্কোয়াস চাষ করবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি স্কোয়াস দেড় থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। সবজি হিসেবে এই এলাকায় স্কোয়াস নতুন হওয়ায় এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে ও স্কোয়াস ক্ষেত দেখতে আসপাসের স্থানীয় অন্যান্য সবজি চাষিরা আসছেন। তার স্কোয়াস চাষে এলাকার সাধারণ কৃষকরা বেশ অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মন আক্তার বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়ফুলবাড়ী উপজেলায় আমাদের পরামর্শে ১৫ জন কৃষক স্কোয়াশ চাষ করে সফলতা পেয়েছে। উচ্চ মূল্যের নিরাপদ সবজি স্কোয়াশ, কম খরচ ও কম সময়ে এই সবজি চাষ করে চাষি লাভবান হচ্ছে বলে আগামীতে উপজেলায় স্কোয়াস চাষের প্রসার ঘটবে বলেও আশা করেন এই কর্মকর্তা।