সিসি নিউজ।। নীলফামারীর ডোমার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণার সময় রির্টানিং কর্মকর্তার কন্ট্রোল রুমে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডোমার থানায় ওই মামলা দায়ের হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ৭০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বুধবার নির্বাচন শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থাপিত কন্ট্রোলরুমে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ফলাফল ঘোষণার সময় ওই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ফলাফল ঘোষণা কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত থাকে। এরপর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে রাত ১১টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার পর আবারও দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শুরু হলে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে সংঘর্ষ। এতে ইট-পাটকেলের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২১ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহন শেষে ডোমার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে ফলাফল ঘোষনার কার্যক্রম চলছিল। এ সময় আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সদ্য সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফায়েল আহমেদের পক্ষের শতাধিক লোকজন পরাজয় বুঝতে পেরে লাঠি সোডা নিয়ে কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। ওই হামলায় প্রার্থীর পরিবারের লোকজনও ছিল বলে জানান অনেকে।
এ বিষয়ে নির্বাচনে বিজিত টেলিফোন প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারহানা আক্তার সুমি অভিযোগ করে বলেন, ‘পরাজয় নিশ্চিৎ জেনে আনারস প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফায়েল আহমেদের ছোট ভাই ডনের নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন লাঠি সোডা হাতে কন্ট্রোল রুমে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় চেয়ার টেবিল আসবাবপত্র ও জানালা দরজা ভাংচুর করে। এ নির্বাচন মানেন না বলেও তারা শ্লোগান দেন। পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে গেলে তারা উপজেলা পরিষদের সামনের গেটে অবস্থান নেন। এর পর থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে পুলিশের সঙ্গে’।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার দুপুরে আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. তোফায়েল আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘রাতের ওই ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ ২১ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় আজ (বৃহস্পতিবার) ডোমার উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফারুক হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ৭০০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন’।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোহসীন আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় ডোমার নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফারুক হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ৭০০ জনের নামে মামালা করেছেন। ওই মামলায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে’।
গ্রেপ্তাকৃতরা হলেন, ছোট রাউতা ফরেস্ট পাড়া গ্রামের মৃত হামিদুল ইসলামের ছেলে মো. আবু সুফিয়ান (৪০), বড় রাউতা থানাপাড়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে মো. রাকিউল ইসলাম (৪০), পশ্চিম বোড়াগাড়ি স্কুলপাড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে রিমুন ইসলাম (২৪), মেলা ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে মো. হারুন অর রশিদ (৩০) ও চিলাই পাগলা বাজারের মৃত নুরুল হকের ছেলে মো. দুলু (৩৮)।