
সিসি নিউজ।। জেলায় ছাত্র জনতার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে শহরের কেন্দ্রী শহীদ মিনার চত্বরে গণ অভুত্থানের প্রেরণায় শহীদ পরিবারে সাথে সাক্ষাৎ এবং দূর্নীতি-চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্র-নাগরিক ব্যানারে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে সন্ধ্যায় নেতৃবৃন্দ নীলফামারী প্রেসক্লাবে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এবং এর আগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এসময় ছাত্র আন্দোলনৈর অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম বলেন,‘ আমাদের ভাইয়ে একটা ইলেকশনের জন্য তাজা রক্ত ঢেলে দেয়নি। রক্ত ঢেলে দিয়েছেন, নিজের বিলিয়ে দিয়েছে এমন এক রাষ্ট্র গঠনের জন্য, যে রাষ্ট্রে আর কাউকে মরতে হবে না। যে রাষ্ট্রে বীর মুগ্ধরা আর মরবে না। বীর মুগ্ধরা পানি লাগবে- পানি, সে হাহাকার তারা করবে না, তাদের কোন দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে আর আসতে হবে না। কোন আবু সাঈদকে বুলেটের সামনে দাঁড়াতে হবে না। যেখানে রাষ্ট্রই ভাববে রাস্টের কথা, রাষ্ট্রই ভাববে জনগণের অধিকারের কথা, রাষ্ট্র যে জনগণকে যে অধিকার দেওয়ার কথা সে অধিকারকে তারা কখনো অনুদান ভাববে না’।
তিনি বলেন, আজ আমাদের মন দুঃখভারাক্রান্ত। শেখ হাসিনার পতন হয়েছে, বিন্তু আমরা এখনো রাজপথে সক্রিয় আছি। আমাদের শহীদ ভাইদের রক্তের বদলা নেওয়ার জন্য। আমাদের শহীদ ভাইয়েরা যে স্বপ্ন নিয়ে শহীদ হয়েছে , যে স্বপ্নে বাংলাদেশ বির্নিমান করার জন্য যে বাংলাদেশ র্পুণগঠন করার জন্য, রাষ্ট্রের সংস্কার করার জন্য আমাদের শহীদ ভাইয়েরা তাদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে। তারা শহীদ হয়েছে যে রাষ্ট্র বিনির্মান করার জন্য এবং শেখ হাসিনা যে ফ্যাসিবাদ কায়েম করে গিয়েছেন সে ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করার জন্য এখন পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় আছে’।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন কি কাজের কথায় তিনি বলেন,‘ আমরা বলতে চাই আগস্টের তিন তারিখে ফ্যাসিবাদি হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আমরা এক দফা দিয়েছিলাম। সেখানে আমরা বলেছিলাম আমরা শেখ হাসিনার পতন চাই। এবং শেখ হাসিনা যে ফ্যাসিবাদ কায়েম করে গিয়েছেন সে ফ্যাসিবাদের কারণে আমাদের হাজারো শহীদ ভাই তাদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে, শহীদ হয়েছে সে ফ্যসিবাদকে বিলোপ করতে হবে , সেটাই ছিল আমাদের এক দফা। এখন সেই ফ্যাসিবাদের বিলোপ করার জন্য আমরা বৈষ্যম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন পর্যন্ত রাজ রাজপথে সক্রিয় আছি। কিন্তু আমাদেরকে বুঝতে হবে রাষ্ট্র সংস্কারের আমাদের যে আন্দোলন, ছাত্র জনতার রাষ্ট্র বিনির্মানের যে আন্দোলন, সে আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এখন পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো ছলে বলে কৌশলে নামে বেনামে তারা আমাদেরকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে’।
ছাত্র ঐক্যের কথায় বলেন,‘ আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজপথ থেকে গড়ে ওঠা বিপ্লবী শক্তি। জীবন দিয়ে হলেও আমরা আমাদের ঐক্যকে ধরে রাখবো। কোন পরাশক্তি, কোন ফ্যাসিস্ট শক্তির কাছে আমরা মাথা নোয়াব না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছাত্র জনতাকে সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুকে ভয় না করে, মৃত্যুকে উপেক্ষা করে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে নিজের তাজা প্রাণ বিলিয়ে দিয়ে এই বাংলাদেশকে হাসিনা মুক্ত করা ছিল আমাদের একটি ম্যানডেড। আরেকটি ম্যানডেড হলো আমরা রাষ্ট্রের পুণরগঠন করবো, রাষ্ট্রের সংস্কার করবো। ছাত্র জনতা যেভাবে ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময়ে ঐক্যবদ্ধ ছিল, এ রাষ্ট্রের পুণরগঠনের আগ পর্যন্ত, লড়াই শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবো। কোন ফ্যাসিস্ট শক্তির কাছে আমরা মাথা নোয়াবো না’।
প্রতিবেশি দেশের কথায় বলেন,‘আওয়ামী লীগ সরকারের শেখ হাসিনা তার ক্ষমতার মসনদকে টিকিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। আমরা ছাত্র জনতা ঐক্যবদ্ধ আছি, আমরা এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মান করবো যে বাংলাদেশের সকল সিদ্ধান নেবে বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের রাষ্টের বিষয়ে সকল ধরণের সিদ্ধান্ত নিবে বাংলাদেশের জনগণ , সেখানে অন্য অন্য কোন রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ থাকবে না। প্রতিবেশি রাষ্ট্র তারা আমাদের বন্ধ,ু তারা আমাদের শত্রু নয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্ততা দেন সমন্বয়ক আবু সাঈদ লিয়ন, রকিব মাসুদ, সুমন বসুনিয়া, সজীব আহমেদ, নিসু আলী সুহাস, জহির রায়হান, এসআই শাহিন প্রমুখ।