সিসি নিউজ।। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা সীমান্তে মাদক ব্যবসার মূলহোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী, মাদক পাচার রোধ ও প্রশাসনের কার্যকরী ভুমিকার দাবীতে আজ বুধবার বিকাল ৩ টায় জেলার ডিমলা উপজেলায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের ডিমলা ব্লকেট কর্মসুচী পালিত হয়েছে। এই কর্মসূচীতে ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ মাদক ব্যাবসায়ী কতৃক মাদকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। ব্লকেড কর্মসুচী চলাকালে স্থানীয় শুটিবাড়ী মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা মোশাহেদুল ইসলাম মানিক, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডিমলা উপজেলা প্রতিনিধি রাশেদুজ্জামান রাশেদ, ছাত্র নেতা জাফর হোসেন, ইমরান হোসেন, জিয়াউল হক জিয়া প্রমুখ।
জানা যায়, জেলার ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের হাতে হামলার শিকার হয় নীলফামারী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী এবং জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক রেজাউল করিম নামে এক শিক্ষার্থী। রেজাউল করিম উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা ঘাটের পাড় গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। এ ঘটনায় ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় চিহ্নিত মাদক ও অবৈধ গরু ব্যবসায়ী পিয়ারুল ইসলাম, নুর আলম, নুর ইসলাম সহ অপরাপর ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২৫-৩০ জনকে আসামী করা হয়। মাদক ব্যবসার মূলহোতাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই তারা জামিনে মুক্তি পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ ও তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য যে, স্বৈরাচার পতনের পর এ এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে চোরাকারবারি এবং মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটছে। বিষয়টি বালাপাড়া বিজিবি কমান্ডারকে ছাত্ররা জানায়, কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে গত ১৯ জানুয়ারী ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয় ছাত্র প্রতিনিধি রেজাউল করিম। পোস্টে উল্লেখ করে, ১৯ জানুয়ারী সকাল ৬টার দিকে পশ্চিম ছাতনাই এলাকায় ভারত থেকে অবৈধ গরু ও মাদক আনার সময় চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে ভারতীয় বিএসএফ গুলি চালায়। এরপর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা যেন আর না যায়। এই ঘটনা মাদক ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়ার মূল কারণ বলে তিনি মনে করেন। মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে রেজাউল করিমের এই সাহসী অবস্থানকে এলাকাবাসী প্রশংসা করলেও, তার উপর হামলার ঘটনায় সবার মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।