• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ইসির শুনানিতে জাসদের ‘মশাল’

মশালঢাকা: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ও নির্বাচনী প্রতীকের দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে ‘দলিলপত্র’ জমা দিয়েছে দুই পক্ষ। নিজেদের ‘মূল জাসদ’ দাবি করে এর পক্ষে বুধবার নির্বাচন কমিশনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবেন দুই কমিটির নেতারা।

গত ১২ মার্চ জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে দুই ভাগ হয় জাসদ। হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতারের কমিটির পাশাপাশি কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দীন খান বাদল, শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধানের আলাদা কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বিভক্তি চূড়ান্ত হয়।

এরই মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে গেছে এক পক্ষের।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, মশাল নিয়ে ‘দৌঁড়ের উপর রয়েছে’ জাসদের দু’পক্ষই। ইসির নির্দেশনা অনুসারে সম্মেলনের কার্যবিবরণী তৈরি করে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে দুই পক্ষই তাদের দলিলপত্র কমিশনের পৌঁছে দিয়েছে।

এদিকে জাসদের আলাদা কমিটি হওয়ার পর থেকে দলীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলছে। প্রার্থী মনোনয়নে প্রত্যয়ন ক্ষমতা নিয়েও দলটিতে তৈরি হয়েছে ‘বিভক্তির জটিলতা’।

দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তি না হলে নতুন জটিলতা হতে পারে- এমন আশঙ্কায় ইসিও সিদ্ধান্ত নিতে তৎপর।

এই পরিস্থিতিতে ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ১৩ নম্বর দল জাসদের প্রতীক মশাল ও দলীয় নিবন্ধনের দাবি নিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্য শুনতে বুধবার তাদের ডেকেছে ইসি। সকালে ইনু-শিরীন ও বিকালে বাদল-প্রধানের শুনানির সূচি রয়েছে।

মঙ্গলবার ইনু-শিরীন কমিটির পক্ষে তাদের দাবি ও দলিলাদি নিয়ে কমিশনে যান সাজ্জাদ হোসেন। আর বাদল-আম্বিয়া-প্রধানের পক্ষের দলিলাদি নিয়ে যান নাজমুল হক প্রধান।

দলের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কার্যালয়ের ঠিকানা, ওয়েবসাইট ও ই মেইল ব্যবহার করে একপক্ষের কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে শিরীন আখতারের স্বাক্ষরে।

এতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির (২০১৬-১৮) তালিকা, কার্যবিবরণী, সভার সিদ্ধান্ত, ইসির প্রতিবেদন, গঠনতন্ত্রের কপি এবং কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে অপর পক্ষের কমিটি ঘোষণা সংক্রান্ত সংবাদের ক্লিপিং ও ভিডিও ক্লিপিং যুক্ত করা হয়েছে।

১২ মার্চের জাতীয় সম্মেলনে হাসানুল হক ইনু-শিরীন আখতারের কমিটি গঠনের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে এতে বলা হয়েছে, সর্বসম্মতিক্রমে ২০১৬-১৮ মেয়াদের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও স্থায়ী কমিটি রাত ২টা ১০ মিনিটে অনুমোদিত হয়েছে।

জাসদের আরেক অংশ সংসদ ভবনের এক নম্বর ব্লকের ৫ নম্বর কক্ষকে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে দেখিয়ে ইসিতে কাগজপত্র জমা দিয়েছে।

মঈনুদ্দীন খান বাদল-শরীফ নুরুল আম্বিয়া-নাজমুল হক প্রধানের স্বাক্ষর করা এ অংশের কার্যবিবরণীতে নব নির্বাচিত কমিটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জাসদের এ কমিটিতে চারজন সাংসদ রয়েছেন, যাদের দু’জন জাসদের প্রতীক মশাল নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

সিইসিকে দেওয়া চিঠিতে এ পক্ষ বলছে, দলের স্থায়ী কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা তাদের জাসদে (বাদল-আম্বিয়া-প্রধান) রয়েছেন। দেশে জাসদের ৭৯টি কমিটির মধ্যে ৪০টি কমিটিই রয়েছে এই পক্ষের সঙ্গে।

এ অংশের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ৩৫-৩৬ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দোতলায় জাসদের অফিস। পরে তা তিন তলায় স্থানান্তরিত হয়। সামরিক শাসনামলে এ অফিস থেকে জাসদকে উচ্ছেদ করা হলেও নেতাকর্মীদের দাবির মুখে মালিকপক্ষ এ অফিস দেয়। এ অফিস কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।

তিনি বলেন, জাসদের কাউন্সিলের পর উদ্ভূত সমস্যায় আমরা মনে করি এ অফিস এখনো জাসদের সম্পত্তি এবং এ অফিস ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।

ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিবন্ধিত দলটির দুই পক্ষের বক্তব্য কমিশন শুনবে। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করে ইসি। এ পর্যন্ত ৪০টি দল ইসির নিবন্ধন পেয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ