জাহাঙ্গীর আলম, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর কুটিচন্দ্রখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন শেষে শাস্তির দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।
অভিযোগে জানা গেছে, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুচিত্রা রানী(৯)কে স্কুল চলাকালীন বিভিন্ন সময় একা থাকার সুবাদে আদর করার ভঙ্গিতে কাছে ডেকে নিয়ে শরীরের স্পর্ষকাতর অঙ্গে হাত দিত। ছাত্রীটি এতে বিরক্তবোধ করলে শিক্ষক রফিকুল তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও পরীক্ষায় বেশী নম্বর দেয়ার প্রলোভন দেখাত। গত ১৬ এপ্রিল শনিবার স্কুল চলাকালীন ওই শিক্ষক পুনরায় একই আচরন করায় বাড়ী ফিরে মেয়েটি তার মাকে বিষয়টি জানায় এবং স্কুল না যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এদিকে গত সোমবার সাংবাদিকরা ওই বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষক রফিকুলকে পাওয়া যায়নি।
সুচিত্রার বাবা সুবল চন্দ্র জানান, ঘটনা শোনার পর আমি প্রধান শিক্ষককের নিকট অভিযোগ করি এবং উপযুক্ত বিচার চাই। কিন্তু রফিকুল প্রধান শিক্ষকের ভাগিনা হওয়ায় তিনি বিচার না করে টালবাহনা করতে থাকেন।
প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, মেয়েটির বাবা ঘটনাটি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সকালে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে গেছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনা তদন্তের জন্য বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে আছি। শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।