• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

পাল্টা জবাব

মাদীপঙ্কর ভৌমিক: অফিস থেকে ফিরতে না ফিরতেই সালমা খাতুন মানে হেলাল সাহেবের মা তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন “জানিস বাবা আজকে তোর বউ আমাকে ঠিক সময়ে সকালের নাস্তা দেয় নি… আমি মনে হয় তোদের কাছে এখন বাড়তি জঞ্জাল হয়ে গেছি…” এই কথা শুনে হেলাল সাহেব ফ্রেশ না হয়েই তাঁর স্ত্রী শায়লার উপর এক রাউন্ড ঝড় বইয়ে দিলেন… শায়লা বেগম শুধুমাত্র একবার প্রতিবাদ করেছিলেন, বলতে চেয়েছিলেন “আসলে বাবুকে স্কুলে দিয়ে ফিরে আসতে আধা ঘণ্টা দেরী হয়ে গিয়েছিলো…তাই…” তাঁর কথার মাঝখানেই ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন হেলাল সাহেব… আর এইদিকে মায়ের উপর হয়ে যাওয়া অপমানের ঝড় দূর থেকে দেখছে হেলাল সাহেব এবং শায়লা বেগমের বড় মেয়ে লামিয়া… সে কিছুটা ভীত…

সব ঝড় থেমে গেলে হেলাল সাহেব ফ্রেশ হয়ে মা আর ছেলে মিলে চা খেতে খেতে নানান গল্প গুজব করতে শুরু করেন… হেলাল সাহেব হঠাৎ তাঁর মেয়েকে ডাক দিলেন… লামিয়া সামনে আসলে তিনি তাকে আদর করে পাশে বসালেন… লামিয়ার কেন যেন বাবার চোখে চোখ রাখতে কষ্ট হচ্ছিল… বেপারটা বুঝতে পারেন হেলাল সাহেব… তিনি বলেন “কি হয়েছে রে তোর??”… লামিয়া অনেক ভয়ে ভয়ে উত্তর দেয় “তুমি মাকে বকলে কেন??” হেলাল সাহেব বললেন “কোথায় বকলাম!! একটু বুঝিয়ে দিলাম যে আমার মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করা তাঁর উচিৎ নয়…”… এই কথার প্রেক্ষিতে লামিয়ে বলেই দিলো “তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো বাবা তুমি যাকে বকেছো সে আমার মা…” এই বলে উঠে চলে গেলো লামিয়া… হেলাল সাহেবের কপালে দেখা দিলো চিন্তার রেখা …

২।

আজ বাসায় হঠাৎ করে খুব চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়ে গেছে… শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে ঝগড়া করছেন হেলাল সাহেব এবং শায়লা বেগম…ঝগড়ার কেন্দ্রবিন্দুতে আবার সালমা খাতুন…আজ শায়লা বেগমের অপরাধ ছিলো তিনি সালমা খাতুনকে আধাঘণ্টা পরে দুপুরের খাবার দিয়েছেন… ঝগড়ার মাঝে হঠাৎ শায়লা বেগম চিৎকার করে উঠলেন… মনে হলো তাকে খুব জোরে আঘাত করা হয়েছে… এরপরই ঘটলো অদ্ভুত ঘটনা… নিজের ঘর থেকে বিকট ভাবে চিৎকার করে উঠলেন সালমা খাতুন… বেপারটা দেখতে তড়িঘড়ি করে ছুটে আসেন হেলাল সাহেব এবং তাঁর পেছনে শায়লা…তাঁরা দেখতে পান একটা বিশাল লাঠি নিয়ে বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আছে লামিয়া আর বিছানায় ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছেন সালমা খাতুন…হেলাল সাহেব লামিয়ার দিকে তাকাতেই লামিয়া বললো “কি বাবা মায়ের চিৎকার শুনে খুব মায়া হলো তাই না… তাহলে একবার মন থেকে বোঝার চেষ্টা করো তুমি যখন আমার মাকে গালাগালি, মারধর করো তখন আমার কেমন লাগে…” কথা শেষ করেই লামিয়া দৌড়ে মায়ের কাছে চলে যায়…মাকে জড়িয়ে ধরে লামিয়া বলে “বিশ্বাস করো মা আমি দাদিকে মারিনি… শুধু ভয় দেখিয়েছিলাম… তোমার কষ্ট আর আমার সহ্য হচ্ছিল না… আমাকে ক্ষমা করে দিও মা… আমি আর এরকম করবো না…”…

অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছেন হেলাল সাহেব এবং সালমা খাতুন… আর মা মেয়ে দুইজনই একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ