• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে সুইফট

সুইফটআন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির পর নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্বব্যাপী আন্তঃব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন সোসাইটি (সুইফট)। নিরাপত্তা বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তারা। আগামী সপ্তাহে পাঁচ দফা নিরাপত্তা পরিকল্পনা ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি।
মঙ্গলবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসবিষয়ক একটি সম্মেলনে সুইফটের প্রধান নির্বাহী গটফ্রাইড তাদের নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা বলেন।  রয়টার্স অনলাইনের এক খবরে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো সুইফটের বার্তা ব্যবস্থার মাধ্যমের পেমেন্ট নির্দেশনা পাঠিয়ে থাকে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি চোরচক্র বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট সিস্টেম হ্যাক করে। সুইফট সিস্টেম হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পেমেন্টের নির্দেশনা পাঠায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে। এর মাধ্যমে চোরচক্র ওই পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি করতে সমর্থ হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সুইফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি।
বাংলাদেশের ব্যাংকের আগেই গত বছর সুইফট বার্তা ব্যবস্থা হ্যাক করে ইকুয়েডরের ব্যাংকো ডেল অস্ট্রো থেকে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে সংঘবদ্ধ চক্র। এরও আগে ভিয়েতনামের তিয়েন ফং ব্যাংকের সুইফট সিস্টেম হ্যাক করার চেষ্টা করে হ্যাকারা, তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সুইফট সিস্টেমে একের পর এক দুর্বৃত্তদের হানা দেওয়ার ঘটনায় বেলজিয়ামভিত্তিক এ সংস্থার ওপর ব্যাংক শিল্পের আস্থাহীনতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক এ সংস্থার মালিক এর ব্যবহারকারীরা।
সুইফটের প্রধান নির্বাহী গটফ্রাইড বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ব্যাংক শিল্পের জন্য একটি বিভাজনকারী রেখা টানবে। বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাকিংয়ের আগে ও পরে দুটি অবস্থা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় … এটি একটি বিরাট ঘটনা। এটি ব্যাংকিং খাতের হৃদয়ে আঘাত করেছে।’
সুইফট এখন যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, তা হলো- ব্যাংকগুলো তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা উন্নত করুক, সুইফটকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো কঠোর হোক এবং প্রতারণামূলক পেমেন্ট শনাক্ত করা যায়, এমন সব সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়াক ব্যাংকগুলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ