বিশেষ প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের ছেলেকে দিয়ে সাজানো হয় অপহরণ নাটক। থানায় জিডি দায়ের এবং পত্রিকা ও ফেসবুকে প্রচার করা হয় নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি। ৪ দিন পর আত্মীয়র বাড়ি থেকে উদ্ধারও হয় ছেলেটি। কিন্তু ঘটনার ১১দিন পর অপহরণের অভিযোগে আসামী করা হয় একই এলাকার ৫ নারী-পুরুষকে। অর্থের বিনিময়ে সবকিছু যখন বাদীর পক্ষে যাচ্ছিল ঠিক সেই মুহুর্তে বেরিযে আসলো একটি ভিডিও ফুটেজ। মামলার আরজিতে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক স্কুলগামী শিশু রাজকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেল আসল দৃশ্য।
জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর চামড়া গুদাম এলাকার মোঃ জিলানী ও রেজওয়ানা ওরফে মনি’র ছেলে রাজ (১০) এফওএস স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। গত ২ জুন সকালে স্কুল যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। ছেলেকে না পেয়ে রেজওয়ানা মনি ঘটনার দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় থানায় একই এলাকার আবেদ (৩৫), দেলেরা (২৫), মোকছেদুল (৩৫), রওশন আরা (২৫) ও বেবীর (৩৫) নামে সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। ওই রাতেই রেজওয়ানা মনি তার লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষকে মারধর করেন। এতে রওশন আরা গুরুতর আহত হন। তিনি সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে তিনদিন চিকৎিসাধিন ছিলেন।
এদিকে, নিখোঁজ ঘটনার ৪দিন পর ৬ জুলাই বিকেলে রেজওয়ানা মনি ও তার ভাই ঠাকুরগাঁও বাস টার্মিনাল সংলগ্ন আট গ্যালারী থেকে শিশু রাজকে নিয়ে আসেন। রাজের মামা ইসরাইল (ভাগগু) দীর্ঘদিন যাবত ওই এলাকায় কর্মরত বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, এফওএস স্কুলের পার্শ্ববর্তী একটি প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত দৃশ্যে দেখা গেছে, ২জুন সকাল ৮টা ১১ মিনিটে শিশু রাজ স্কুলভ্যান থেকে নেমে রাস্তার পাশে কারও জন্য অপেক্ষা করছিল। এর এক মিনিট পর সে কারও ইশারায় পেট্টোল পাম্পের ভেতর রাখা তেলবাহী একটি ট্রাকের পাশে আড়াল হয়ে দাঁড়ায়। এরও কিছু সময় পর সে পাম্পের সামনের রাস্তার দিকে চলে যায়। ধারণকৃত ওই ভিডিও ফুটেজ দেখে অনেকে নিশ্চিত হন যে, অপহরণ ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার কৌশল মাত্র। এলাকাবাসী জানান, শিশু রাজ অপহরণের বিষয়টি রহস্যজনক।
অন্যদিকে, এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার ভুমিকাও রহস্যময় বলে অভিযোগ করেন বিবাদীপক্ষ। বিবাদীগণ জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রেয়াজুল ইসলাম একতরফা তদন্ত করেছেন। তিনি আমাদের সাথে কোন কথা বলেননি। এমনকি আমরা চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলার সুযোগ পাইনি। ওই তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, যৌন হয়রানি ও গোপন ক্যামেরায় যৌনদৃশ্য ধারণ সংক্রান্ত রওশন আরা’র করা একটি মামলায় রেজওয়ানা মনি’র স্বামী জেলানী ও দেবর মেহেদী হাসান আব্দুল অভিযুক্ত। জিলানী পলাতক এবং মেহেদী হাসান আব্দুল জেল-হাজতে রয়েছে। ওই মামলার বাদীপক্ষকে হয়রানি করতেই নিজের শিশু সন্তানকে দিয়ে অপহরণ নাটক সাজিয়েছিল বলে এলাকার অনেকে জানান।