
নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২৯জন শিক্ষার্থীকে ২০১৫ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য সম্মাননা প্রদান করা করা হয়েছে।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে উন্নয়নমুখি সমাজকল্যাণ সংস্থা (ইউএসকেএস) আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করেন। একই অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মাননা দেয়া হয়।
সংস্থাটির সভাপতি ডা. মমতাজুল ইসলাম মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী পরিচালক আহসান রহিম মঞ্জিল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মমতাজুল হক, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়রাম্যান আবুজার রহমান, ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মজিবুল হাসান চৌধুরী শাহিন, সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক নরেশ চন্দ্র রায় প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘মুক্ত মনের মানুষ তৈরী হতে লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়াসহ সাংস্কৃতিক চর্চায় মনোনিবেশ করতে হবে। তা না হলে একজন পূনাঙ্গ মানুষ তৈরী হতে অনেক ঘাটতি বিরাজ করবে। সন্তানরা লেখাপড়া করতে গিয়ে কি করছে সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে।’ শিক্ষকতা পেশাটিকে চাকুরী হিসেবে না দেখে এটি একটি ব্রত হিসেবে দেখার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
মন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে ১১জন শিক্ষকদের চলতি ভাতার পাশাপাশি প্রতিমাসে এক হাজার করে টাকা অতিরিক্ত ভাতা প্রদানের ঘোষণা দেন।
উন্নয়নমুখি সমাজকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী পরিচালক আহসান রহিম মঞ্জিল জানান, ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংস্থার পরিচালিত ১১টি উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে ২৩৩ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ করেছে।
এর মধ্যে ১২৯ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। জিপিএ-৫ অর্জনকারীদের মধ্যে ২০ জন মেধা তালিকায় এবং ১৭জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করেছে। যা দেশের এই ধারার বিদ্যালয়সমূহের সর্বোচ্চ ফলাফল বলে বিবেচিত হয়েছে। তাই এসব ঝড়েপড়া শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের ভাল ফলাফলে নিবেদিত প্রাণ শিক্ষকদের প্রনোদিত করতে সংস্থার পক্ষ থেকে এই সম্মাননার আয়োজন করা হয়।