• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন |

ঝিনাইদহের যুবককে মালয়েশিয়ায় আটকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ

ঝিনাইদহঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহামায়া গ্রামের তুহিন রেজা (২৩) নামে এক যুবককে মালয়েশিয়ায় আটকে রেখে দফায় দফায় তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত তুহিনের পরিবার দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েছেন।
তারপরও ভিনদেশে নির্যাতন থেমে নেই। বিপুল পরিমান দাবীকৃত অর্থ না পেয়ে তুহিন রেজার দুই পা এবং এক হাত ভেঙে তিন তলা বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর একটি অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে থানা পুলিশের দারস্থ হওয়ার পর দালাল চক্রটি স্ব-পরিবারে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের মহামায়া গ্রামের ব্রীজ পাড়ার ইসলাম উদ্দীনের ছেলে তুহিন রেজা বিদেশ যাওয়ার জন্য এলাকার একাধিক দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েন।
২০১১ সালে লিবিয়া যাওয়ার জন্য মহামায়া ও বেজিমারা গ্রামের দালাদের সাথে চুক্তি করে। একই বছরের মার্চ মাসে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে তুহিন। দুই বছর ধরে ঘোরানোর পর দালালরা জানান, লিবিয়ার আবস্থা ভাল নয়। সাড়ে ৪ লাখ টাকা হলে ইরাক বা কাতারে পাঠানো হবে। এরপর ফ্লাইটের নামে তুহিনকে দফায় দফায় ১৬ বার ঢাকায় নিয়ে রাখা হয়।
সর্বশেষ একই খরচে তুহিনকে গত ১৪ জুলাই মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। মালয়েশিয়ায় পৌছানোর পর দালালচক্র তুহিনকে আটকিয়ে পরিবারের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে ভিনদেশে তুহিনকে দফায় দফায় নির্যাতন করা হচ্ছে।
কোন উপায়ন্ত না পেয়ে তুহিনের দরিদ্র বাবা গরু ও মাঠের জমি বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করেন। ততক্ষনে টাকা আদায়ে জন্য নির্যাতন করে তুহিনের দুই পা এবং একত হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে।
এরপর তুহিনের নিকট আরো দশ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারাই তিন তলা বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে। এই ঘটনায় তুহিনের পিতা ইসলাম উদ্দীন বাদি হয়ে মহামায়া গ্রামের মধু, আসাদ, বজিমারা গ্রামের মাহফুজুর রহমান ওরফে পল্টু ও তোরাব আলিকে আসামী করে ঝিনাইদহ সদর থানায় অভিযোগ করেছেন।
তুহিনের মা রোকেয়া খাতুন জানান, তুহিন রেজাকে ভাল চাকরী দেওয়ার কথা বলে মহামায়া গ্রামের আসাদ, মধু, বেজিমারা গ্রামের তোরাব আলি, মাহফুজ ওরফে পল্টু তার ছেলের পিছু লাগে। ছেলের আগ্রহ আর দালালের কথা বিশ্বাস করে বিদেশ পাঠাতে রাজি হই। এখন টাকা দিতে দেরি হওয়ায় দুই পা আর বাম হাত ভেঙে দিয়েছে তারা।
তিনি আরো জানান, ঢাকার দালাল ফরিদপুরের শহিদুল ইসলাম ও সদর উপজেলার কুঠিদূর্গাপুর গ্রামের মতিন ওরফে মতি দালাল তার ছেলেকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালায়। বর্তমান মালেয়েশিয়ায় তার এক আতœীয়ের নিকট ছেলে তুহিন চিকিৎসাধিন রয়েছে বলে রোকেয়া খাতুন জানান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার উপদরিদর্শক আশোক কুমার জানান, এই ঘটনায় মহামায়া গ্রামের মধু, আসাদ এবং বেজিমারা গ্রামের মাহফুজুর রহমান ওরফে পল্টু ও তোরাফ আলিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দাখিল করেছেন। যা আমারা তদন্ত করে দেখছি। সত্যতা পেলে মামলা হিসাবে গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, ঝিনাইদহে বিদেশে মানুষ পাঠানোর নামে গোটা জেলায় একাধিক দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। চক্রটি গ্রামের সহজ সরল মানুষকে বিদেশে ভাল চাকরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে কোট কোটি টাকা আদায় করছে।
অথচ বিদেশে গিয়ে তারা ভাল মানের চাকরী পাচ্ছে না। বিষয়টি জেলাব্যাপী ওপেন সিক্রেট হলেও প্রতারিত মানুষ কোন প্রতিকার মিলছে না।
আদালতে, থানা পুলিশ ও এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে বিদেশে চাকরী দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের হাজারো অভিযোগ জমা পড়ছে। কিঝিনাইদহের যুবককে মালয়েশিয়ায় আটকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহামায়া গ্রামের তুহিন রেজা (২৩) নামে এক যুবককে মালয়েশিয়ায় আটকে রেখে দফায় দফায় তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত তুহিনের পরিবার দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েছেন।
তারপরও ভিনদেশে নির্যাতন থেমে নেই। বিপুল পরিমান দাবীকৃত অর্থ না পেয়ে তুহিন রেজার দুই পা এবং এক হাত ভেঙে তিন তলা বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর একটি অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে থানা পুলিশের দারস্থ হওয়ার পর দালাল চক্রটি স্ব-পরিবারে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের মহামায়া গ্রামের ব্রীজ পাড়ার ইসলাম উদ্দীনের ছেলে তুহিন রেজা বিদেশ যাওয়ার জন্য এলাকার একাধিক দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েন।
২০১১ সালে লিবিয়া যাওয়ার জন্য মহামায়া ও বেজিমারা গ্রামের দালাদের সাথে চুক্তি করে। একই বছরের মার্চ মাসে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে তুহিন। দুই বছর ধরে ঘোরানোর পর দালালরা জানান, লিবিয়ার আবস্থা ভাল নয়। সাড়ে ৪ লাখ টাকা হলে ইরাক বা কাতারে পাঠানো হবে। এরপর ফ্লাইটের নামে তুহিনকে দফায় দফায় ১৬ বার ঢাকায় নিয়ে রাখা হয়।
সর্বশেষ একই খরচে তুহিনকে গত ১৪ জুলাই মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। মালয়েশিয়ায় পৌছানোর পর দালালচক্র তুহিনকে আটকিয়ে পরিবারের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে ভিনদেশে তুহিনকে দফায় দফায় নির্যাতন করা হচ্ছে।
কোন উপায়ন্ত না পেয়ে তুহিনের দরিদ্র বাবা গরু ও মাঠের জমি বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করেন। ততক্ষনে টাকা আদায়ে জন্য নির্যাতন করে তুহিনের দুই পা এবং একত হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে।
এরপর তুহিনের নিকট আরো দশ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারাই তিন তলা বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে। এই ঘটনায় তুহিনের পিতা ইসলাম উদ্দীন বাদি হয়ে মহামায়া গ্রামের মধু, আসাদ, বজিমারা গ্রামের মাহফুজুর রহমান ওরফে পল্টু ও তোরাব আলিকে আসামী করে ঝিনাইদহ সদর থানায় অভিযোগ করেছেন।
তুহিনের মা রোকেয়া খাতুন জানান, তুহিন রেজাকে ভাল চাকরী দেওয়ার কথা বলে মহামায়া গ্রামের আসাদ, মধু, বেজিমারা গ্রামের তোরাব আলি, মাহফুজ ওরফে পল্টু তার ছেলের পিছু লাগে। ছেলের আগ্রহ আর দালালের কথা বিশ্বাস করে বিদেশ পাঠাতে রাজি হই। এখন টাকা দিতে দেরি হওয়ায় দুই পা আর বাম হাত ভেঙে দিয়েছে তারা।
তিনি আরো জানান, ঢাকার দালাল ফরিদপুরের শহিদুল ইসলাম ও সদর উপজেলার কুঠিদূর্গাপুর গ্রামের মতিন ওরফে মতি দালাল তার ছেলেকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালায়। বর্তমান মালেয়েশিয়ায় তার এক আতœীয়ের নিকট ছেলে তুহিন চিকিৎসাধিন রয়েছে বলে রোকেয়া খাতুন জানান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার উপদরিদর্শক আশোক কুমার জানান, এই ঘটনায় মহামায়া গ্রামের মধু, আসাদ এবং বেজিমারা গ্রামের মাহফুজুর রহমান ওরফে পল্টু ও তোরাফ আলিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দাখিল করেছেন। যা আমারা তদন্ত করে দেখছি। সত্যতা পেলে মামলা হিসাবে গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, ঝিনাইদহে বিদেশে মানুষ পাঠানোর নামে গোটা জেলায় একাধিক দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। চক্রটি গ্রামের সহজ সরল মানুষকে বিদেশে ভাল চাকরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে কোট কোটি টাকা আদায় করছে।
অথচ বিদেশে গিয়ে তারা ভাল মানের চাকরী পাচ্ছে না। বিষয়টি জেলাব্যাপী ওপেন সিক্রেট হলেও প্রতারিত মানুষ কোন প্রতিকার মিলছে না।
আদালতে, থানা পুলিশ ও এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে বিদেশে চাকরী দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের হাজারো অভিযোগ জমা পড়ছে। কিন্তু টাকা পাচ্ছে না প্রতারিত মানুষগুলো।

মহিলা কাউন্সিলরের জামায়াত ত্যাগ
ঝিনাইদহ পৌরসভার সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোছা বুলবুলি ইসলাম জামায়াত ত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার তিনি ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমীরের বরাবর লিখিত এক পদত্যাগ পত্রে তিনি জামায়াত ত্যাগের ঘোষনা দেন।
বুলবুলি ইসলাম উল্লেখ করেন, আমি ঝিনাইদহ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের মহিলা রোকন পদে নিয়োজিত ছিলাম। কিরু‘ জনপ্রতিনিধি হওয়ায় দেশের স্বার্থে সরকার ও পৌর নাগরিকদের কল্যানের কথ্য বিবেচনা করে আমি জামায়াতের সকল পদ থেকে পদত্যা করে সরকারের গৃহীত কর্মসুচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি।

মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশী আহত
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার লড়াইঘাট সীমান্তে মঙ্গলবার ভোরে আব্দুল হাকিম (২৭) নামে এক গরু ব্যবসায়ী বিএসএফ’র গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি মহেশপুরের শ্যামকুড় গ্রামের নুরুল আমিন সরদারের ছেলে। গুলিবিদ্ধ আব্দুল হাকিমকে যশোর আড়াইশ বেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খালিশপুর ৫৮ বিজিবির পরিচালক লেঃ কর্ণেল তাজুল আসলাম তাজ খবরের সত্যতা নিশ্চত করে জানান, ভারতের ছুটিপুর এলাকায় ৭/৮ জনের একদল বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী অবৈধ ভাবে প্রবেশ করলে বিএসএফ তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় বাংলাদেশীরা বিএসএফ এর বাধা উপেক্ষা করে ভারতের মধ্যে প্রবেশ করতে গেলে বিএসএফ গুলি চালায়। এতে আব্দুল হাকিম নামে এক গরু ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন।
তিনি আরো জানান, তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা হাকিমকে উদ্ধার করে রাতেই তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বিজিবির পরিচালক লেঃ কর্ণেল তাজুল আসলাম তাজ অভিযোগ করেন, মহেশপুরের শ্যামকুড় এলাকার আব্দুর রহিম মেম্বর নামে এক ব্যক্তি সীমান্ত এলাকায় গ্যাং গ্রুপ তৈরী করে ভারতে চোরাচালারের জন্য লোক পাঠাচ্ছে।
গুলিবিদ্ধ হাকিম চোরাচালান সিন্ডিকেটেরে গডফাদার রহিম মেম্বরের গ্রুপের সদস্য। বিজিবি পরিচালক বলেন, স্থানীয় শ্যামকুড় ইউনিয়নের ৬ নং ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। তিনি এলাকার মানুষকে টাকার লোভ দেখিয়ে গরু ব্যবসার প্রতি উদ্বুদ্ধ করছেন।
রহিমের এই অবৈধ ব্যবসার কারনেই প্রায়ই সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ীদেরকে গুলি করে আহত করা কিংবা নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যামসহ এলাকার মাতুব্বরদের সাথে কথা বলে রহিম মেম্বরকে এই অনৈতিক কাজ করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টার পরও তিনি ভারতের অভ্যন্তরে লোকজন পাঠিয়ে সীমান্ত অস্থির করে তুলছেন বলে বিজিব জানায়।
এদিকে সীমান্তের একটি সুত্র জানায় রহিম মেম্বর গরু থেকে শুরু করে স্বর্ণ, ফেনসিডিল, ইয়াবা, অস্ত্র এবং বিভিন্ন রকমের ভারতী চোরাই পন্যসামগ্রী পাচারের সাথে জড়িত। এ ব্যাপারে রহিম মেম্বরের সাথে কথা বলতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।কিন্তু টাকা পাচ্ছে না প্রতারিত মানুষগুলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ