ঢাকা: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জাড়িত থাকার অপরাধে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ শনিবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি দল তার ফাঁসি কার্যকর করেছে। অন্যরার হলেন দ্বীন ইসলাম, রিপন ও শাহীন। এর আগে সরকারের নির্বাহী আদেশ পাওয়ার পর আজ সন্ধ্যার আগেই এ জামায়াত নেতার পরিবারের সদস্যরাও তার সাথে দেখা করে গেছেন। তার পরিবারের সদস্যরা বেরিয়ে যাওয়ার পর কারাগারে ঢুকেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন। এর পর থেকেই শরু হয় ফাঁসি কার্যকরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। তার পর প্রবেশ করে কয়েকটি এম্বুলেন্স। ফাঁসি কার্যকর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে গোসল ও তওবা পড়ানোর হয়।
এদিকে আজ দুপুরের পর থেকেই গাজীপুরের সুরক্ষিত এই কারাগারের ফটকে পুলিশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক র্যাব সদস্েযর সারি বেঁধে অবস্থান নিয়েছিল। রাজধানী ঢাকাসহ গাজিপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি সদস্যদেরও। র্যাব সদস্যদের অবস্থানের আগে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে কারাগারে ঢোকে ফায়ার সার্ভিসের একটা গাড়ি। পুলিশের একটি জলকামান আগের রাতেই কারাগারের ভেতরে নিয়ে রাখা হয়েছে। কারাগারের আরপি চেকপোস্ট সংলগ্ন দোকানপাট দুপুরেই বন্ধ করে দেয় পুলিশ। কারাগারে অন্য বন্দিদের সাথে স্বজনদের সাক্ষাতের নিয়মিত কার্যক্রমও বন্ধ ছিল।
যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে এই প্রথম কারও সাজা কার্যকর হলো কাশিমপুরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। এর আগের ৫ জনের দ- কার্যকর হয়েছিল ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের কারাগারে। সম্প্রতি ওই কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হয়েছে। জামায়াতের মজলিসে শূরা সদস্য মীর কাসেমকে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৪ সালে মৃত্যুদ- দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছর মার্চে আপিল বিভাগেও সেই রায় বহাল থাকায় তিনি রিভিউ আবেদন করেন। আপিল বিভাগ গত মঙ্গলবার রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিলে কাসেমের মামলার সব বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটে।
মীর কাসেমের প্রাণ বাঁচানোর শেষ সুযোগ ছিল কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার। তিনি সেই সুযোগ নেবেন না বলে শুক্রবার কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিলে দ- কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। জামায়াতের প্রধান অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত ৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেমকে রাখা হয়েছে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ৪০ নম্বর কনডেম সেলে। জেলার নাশির আহমদ শনিবার দুপুরে জানান, কারাগারের চিকিৎসকরা বন্দির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তাকে স্বাভাবিক খাবার দেয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত ১৯৫২ সালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মীর কাশেম আলী জন্ম হয় তার ডাক নম ছিল মিন্টু। তবে বাবার কর্মসূত্রে বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। ইসলামী ছাত্র সংঘের চট্টগ্রাম শহর শাখার সভাপতি হিসেবে আল বদর বাহিনীর আঞ্চলিক নেতা। ডালিম হোটেল ছিল তার নির্যাতন কেন্দ্র। ১৯৭৫ সালের পর জামায়াত সক্রিয় হয়ে ওঠার পর ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রথম সভাপতি। তিনি ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাকালীন ভাইস চেয়ারম্যান; বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য; রাবেতা আল ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা; দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান; কেয়ারি গ্রুপের কর্ণধার।