• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন |

‘হামরা তাক মনে রাখমো বাহে’

dkdk_50054সিসি ডেস্ক: ‘আগের সরকারগুলা হামাক তেমন কিছুই দেয় নাই। এবার বানের সময় তেল, নুন, টাকা সউগ দিছে। দোয়া করি তাঁয় য্যান বাঁচি থাকে। তাঁয় থাকলে মানুষ খুব উপকার পাইবে’।
‘ইউনিয়ন পর্যায়ে হত দরিদ্রদের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজিতে চাল পেয়ে এভাবেই অনভুতি ব্যক্ত করেন চিলমারী সদরের আকন্দপাড়া গ্রামের বিধবা হালিমা খাতুন।
তার অন্ধ স্বামী আর ছোট একটি সন্তান নিয়ে বড়ো অভাবের সংসার। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। কোনদিন একবেলা, কোনদিন দু’বেলা খাবার জুটতো। মাসে মাত্র ৩০০ টাকায় ৩০ কেজি চাল পাবেন এমন আশা স্বপ্নেও করেননি তিনি।
হালিমার সাথে চালের বস্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুর ফাতেমা বেগমের আনন্দটা অন্যরকম। অভাবনীয় সস্তায় চাল পাওয়ার পাশাপাশি প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে এই চালের বস্তাটি পেয়ে ধন্য তিনি।
তিনি বলেন, হামরা শেক হাসিনাক দেখিনাই কোন দিন। হামার দুঃখের কথা চিন্তা করি তায় যে কামটা করিল। হামরা তাক খুব মনে রাখমো বাহে’।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি উদ্বোধনের পর বুধবার চিলমারী উপজেলা সদরের থানাহাট এ ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ১৫ জনের কাছে ১০ টাকা কেজি দরের চাল ও খাদ্যবান্ধব কার্ড বিতরণ করেন।
জাহাঙ্গীর, আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুল খালেক, আজিজুল হকসহ যারাই প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চাল পেয়েছেন তারাই খুশিতে আত্মহারা। তারা জানান, নদীভাঙা চরাঞ্চলে এমনিতেই সারা বছর কাজের অভাব লেগে থাকে। বর্ষা ও বন্যায় কর্মসংকট আরো প্রকট হয়। তবে ধান লাগা ও কাটার আগের সময়টাতে তেমন কাজ থাকে না। অনেকেই ধার দেনা করে চলেন। কেউ কাজের সন্ধানে বাইরে যান। এ সময় অনেকের ঘরে চাল থাকেনা। হাতে থাকে না টাকাও। এ অবস্থায় ১০ টাকা কেজির চাল তাদের ঘরে খাদ্য সংকট মেটাতে সাহায্য করবে।
মাত্র ১-২ দিনের রোজগারের টাকায় ৩০ কেজি চাল পাবার ঘটনাটিকে অবিশাস্য বলে মনে করেন থানাপাড়ার দিনমজুর আবু বক্কর। বলেন ‘এ্যালা কাম না চললেও প্যাটের চিন্তা থাকপ্যার নয়’।
১০ টাকায় চাল দিতে প্রধানমন্ত্রী আসছেন-এ খবরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন বহু দরিদ্র মানুষ। তবে সভাস্থলে সবাই ঢুকতে না পারলেও রাস্তায়, বাঁধে, গাছতলায় বসে আলাপ করতে দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলে থাকার সময় বাসন্তির বাড়িসহ চিলমারীতে কয়েকবার আসলেও এবার দরিদ্র মানুষের জন্য বড় সুখবর দিয়ে এসেছেন বলে জানান স্থানীয় মানুষজন।
চালের বস্তা মাথায় নিয়ে চিলমারী উপজেলা পরিষদ চত্বর হয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন বিধবা দেয়ারা বেওয়া। তাকে থামিয়ে ছবি তুলতে গেলে অভাবী মুখে ফুটে ওঠে হাসির ঝিলিক। মন্ডলপাড়া গ্রামের দেয়ারা বেওয়ার ৫ জনের সংসারে এক ছেলেই কেবল উপার্জন করেন। কিন্তু বন্যার সময় থেকে কাজ না মেলায় বড় কষ্টে দিনযাপন করছিলেন।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রধানমন্ত্রী তাকে চাল দেবেন শুনে খুশিতে দু’দিন ধরে প্রায় নির্ঘুম রাত কাটছে বলে জানান ।
চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম বলেন, ‘৭৪’র দুর্ভিক্ষের সময় এই চিলমারীর জেলে পাড়ার বাসন্তিকে জাল পড়িয়ে বিশ্ববাসীর কাছে বঙ্গবন্ধুকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা হয়েছিল। বোঝানো হয়েছিল চিলমারী আর কুড়িগ্রাম মঙ্গার এলাকা। সেই মঙ্গা আর নেই। তবে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ১০ টাকা কেজিতে চাল দিয়ে তার কথা রেখেছেন। চিলমারীর নদী ভাঙা হত দরিদ্র মানুষদের কাছে এসে তিনি এই কর্মসূচি উদ্বোধন করায় দরিদ্র মানুষরা খুব খুশি হয়েছে’।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস সুত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭৯টি পরিবার খাদ্যবান্ধব কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সৃজনশীল এই কর্মসূচির সুফল পাবেন। চাল বিক্রির জন্য জেলায় ২৪৭ জন সম্ভাব্য ডিলারের মধ্যে ১২৬ জনকে ইতোমধ্যে নিযুক্ত করা হয়েছে।
খাদ্য সচিব এ এম বদরুদ্দোজা বলেন, কেজিতে ২৭ টাকা ভতুকি দিয়ে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে চাল দিতে গিয়ে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা ভুর্তকি দিতে হবে।
উৎস: বিবার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ