সিসি নিউজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীতে ট্যাম্পাকো ফয়লস লিমিটেডের পলি প্যাকেজিং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় মালিকের নামে মামলা করা হবে। আজ শনিবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি বলেছেন, কেমিক্যালের মাধ্যমে এ আগুন ব্যাপকতা লাভ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এরপর বিকাল ৪টা ২৩ মিনিটে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, যেহেতু এতো মানুষ মারা গেছে, তাই এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের পরে বলে যাবে কোন কোন ধারায় মামলা হবে।
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের মালিকানাধীন এই কারখানাটিতে ভোরে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। তখন সেখানে রাতের শিফটের কাজ চলছিল। তবে কত জন সেখানে ছিল এবং তাদের কতজন নিরাপদে বের হয়ে আসতে পেরেছেন সেটা স্পষ্ট নয়।
দুর্ঘটনায় ২৩ জনের মৃত্যু হলেও কারখানা মালিক মকবুল হোসেন একটিবারের জন্যও ঘটনাস্থলে যাননি। কেবল তিনি নয়, মালিকপক্ষের ঊর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তাই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি। স্থানীয় প্রশাসন চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
বিকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, ‘কারখানার মালিক দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই এই ধরনের ইন্ডাস্ট্রি করা ঠিক হয়নি তার। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশ প্রধান পরিদর্শন করে আসার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যান ঘটনাস্থলে। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা মোকাবিলায় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছেন। না করলে হয়তো আগুন আরও ব্যাপক হতো। কেমিক্যালের মাধ্যমে এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত শুনেছি ২৩ জন মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। হাসপাতালে কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যারা এ ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করেন, আমরা সব সময় তাদের বলে এসেছি তারা যেন বিশেষ ব্যবস্থা রাখেন। যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। আর সে জন্য পুরান ঢাকা থেকে আমরা কেমিক্যালের গুদাম সরিয়ে দিয়েছি। এ কারখানায় বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহৃত হতো বলে আমরা শুনেছি। কেমিক্যালের মাধ্যমে এ আগুন ব্যাপকতা লাভ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।