ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে থানায় নিয়ে নির্যাতন, গালিগালাজ ও অবৈধ সুযোগ সুবিধার অভিযোগে ঝিনাইদহের একটি আদালতে পুলিশের এএসআই আরিফসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে (যার নং ৬৯৬/১৬)।
ঝিনাইদহ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফাহমিদা জাহাঙ্গীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন।
আসামীরা হলেন, ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকার মিলন রহমানের স্ত্রী রেহেনা খাতুন, ঝিনাইদহ সদর থানার এএসআই আরিফ ও হরিণাকুন্ডু উপজেলার লক্ষিপুর গ্রামের মালেক মন্ডলের ছেলে আসমাউল হুসাইন।
মামলার বাদী ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার শাখারীদহ গ্রামের মৃত গোলাপ মালিথার ছেলে মোঃ আশির উদ্দীন। তিনি আদালতে দায়ের করা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, আসামী রেহেনা খাতুনের সাথে বাদীর স্ত্রী হাসিনা খাতুনের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা লোন উঠিয়ে দেন।
এই টাকা মাসে মাসে পরিশোধ কার প্রতিশ্রুতি দেন আসামী রেহেনা। পরবর্ততে লোনের টাকা চাইলে আসামী রেহেনা নানা অজুহাত খাড়া করেন এবং বিভিন্ন লোক দিয়ে নানা ধরণের হুমকী দেন।
গত ১১ সেপ্টম্বর আসামী রেহেনা টাকা দিবে বলে সংবাদ দেয়। সে মোতাবেক টাকা নিতে দেড়শ টাকার স্ট্যাম্পসহ বাদীর ছেলে উজ্জলকে পাগলাকানাই এলাকায় আসতে বলেন। টাকা নিতে আসা মাত্রই আসামী রেহেনা ও তার বোনের ছেলে আসমাউল অজ্ঞাত ৪/৫জন লোক নিয়ে বাদীর ছেলে উজ্জলের গতিরোধ করে।
এ সময় সাদা পোশাকে থাকা এএসআই আরিফ বাদীর ছেলে উজ্জলকে দেখে বলে ওঠেন আমি তোকেই তো খজছি। এরপর তাকে হাতকড়া পরিয়ে টেনে হ্যাচড়ে ইজিবাইকে তুলে ঝিনাইদহ সদর থানায় নিয়ে যায়।
ইজিবাইকের মধ্যে এএসআই আরিফ উজ্জলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুই কোর্টে চাকরী করিস। আর আমি আইন জন্ম দিই। তোর চাকরী আমি খেয়ে নেব। তোর মতো কত মানুষের আমি চাকরী খাইছি।
পরবর্ততে আদালতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের নাজির সোহেল রানা বাদীর ছেলে উজ্জল ও তার বন্ধুকে থানা তেকে নিয়ে আসেন।
আসামী রেহেনা খাতুনের কাছ থেকে অবৈধ সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে আসামী এএসআই আরিফ ক্ষমতার অপব্যাবহার করেছেন বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।
বাদীর আইনজীবী এড. শওকত আলী জানান, মামলাটি আদালত গ্রহন করে তিন আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছে। আদালতের আদেশের কপি সদর থানায় বিধি মোতাবেক পৌছে যাবে বলেও তিনি জানান।
ঝিনাইদহ কোর্ট হাজত পুলিশ লাঞ্চিত আদালতে মামলা দায়ের
ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের হাজত খানায় সোমবার পুলিশ লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় আদালতে একটি মামলা হয়েছে (নং ঝিসিআর ৬৯৫/১৬)। মঙ্গলবার পুলিশের এটিএসআই মল্লিক মোস্তাব আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
ঝিনাইদহ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফাহমিদা জাহাঙ্গীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে একমাত্র আসামী শাহরিয়ার পারভেজ রাসেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। আসামী রাসেল এখন হাজতেই আছেন।
উল্লেখ্য, সোমবার হাজতখানায় রাসেলকে খাবার দিতে আসার সময় পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতিদর ঘটনা ঘটে। রাসেলের স্বজনদের অভিযোগ খাবার দিতে ৪০০ টাকা দাবী করে পুলিশ। এ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
ঘটনার দিন ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন সেখানে তেমন কিছুই ঘটেনি।
তবে মঙ্গলবার মামলা হওয়া ও আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর পর বিষয়টি খোলসা হয়। এদিকে বিষয়টি নিয়ে কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুল বারী জানান, দলবেধে লোকজন দেখা করতে আসছিলো।
আমরা বাধা দেওয়ায় আমাদের সাথে আসামী দুব্যাবহার করেন এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের লাঞ্চিত করা হয়।
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অজ্ঞাত যুবক হত্যা গলিত লাশ উদ্ধার
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাটফাজিলপুর থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের (৩৫) বস্তাবন্দি গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম সাংবাদিককে জানান, সকালে হাটফাজিলপুর বিশ্বাসপাড়া মসজিদের পাশে ধান ক্ষেতে একটি বস্তাবন্দি লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসি পুলিশকে খবর দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। তিনি আরো জানায়, ধারণা করা হচ্ছে ১০/১২ দিন আগে দুর্বৃত্তরা ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে বস্তা বন্দি করে মাঠের মধ্যে ফেলে গেছে। লাশটি পচে গলে বিকৃত আকার ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত তার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে কে বা কারা বেশ কয়েকদিন আগে তাকে হত্যা করে ধান ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখে যায়। মৃতদেহটি ঝলসানো ও বিভিন্ন স্থানে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।
ওসি আরো বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার বিকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।