• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

অবসর ভাতার অধিকার হারাচ্ছেন মোশতাক, জিয়া ও এরশাদ

%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%b0সিসি ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রাপ্ত মাসিক বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসর ভাতা ও মন্ত্রীর সমমর্যাদায় চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার বিধান রেখে ‘রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন ২০১৬’ পাস করেছে জাতীয় সংসদ। ছয় মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেই রাষ্ট্রপতিরা এ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন। তবে বিলের ৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘কতিপয় ক্ষেত্রে অবসরভাতার অধিকারের অপ্রযোজ্যতা’ শর্ত অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বপালনকারী মোশতাক আহমদ, জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন না।
মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশনে বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন সংসদকার্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলের ওপর আনিত সংশোধনী ও জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। জাতীয় পার্টির এমপিরা রাষ্ট্রপতির দায়িত্বপালনকারী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে অবসর সুবিধা দেয়ার জন্য বিলটি জনমত যাচাইয়ে পাঠানোর প্রস্তাব করেন।
তারা দাবি করেন যেহেতু তিনি পরে জনগণের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, সেহেতু তিনি তার দাবিদার। গণভোট হলে এরশাদ এক্ষেত্রে ৮০ ভাগ ভোট পাবেন বলে দাবি করা হয়। পরে এ বিষয়ে মন্ত্রী সংসদে জাতীয় পার্টির ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এ বিষয়ে তারা চুপ থাকলেই ভালো করতেন।
বিলে অবসরভাতা না পাওয়ার শর্তে বলা হয়েছে, ‘এই আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধা লাভের অধিকারী হবেন না যদি তিনি-ক) রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠান শেষে এমন কোন দফতরে, আসনে, পদে বা মর্যাদায়  দায়িত্ব পালন করছেন বা করেছিলেন এবং সেজন্য তিনি সংযুক্ত তহবিল থেকে বেতন বা অন্য কোন সুবিধা পাচ্ছেন বা পেয়েছিলেন; খ) এ আইনের অধীন অবসরভাতার প্রাধিকার অর্জন করিবার পর কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নৈতিক স্খলনজনিত কোন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হন; অথবা গ) অসাংবিধানিক পন্থায় বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বা হয়েছিলেন মর্মে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক ঘোষিত হন।’
রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা বিল ২০১৫ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের রায়ে সংবিধানের ৫ম সংশোধনী বাতিল ঘোষিত হওয়ায় প্রেসিডেন্টস পেনসনস অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯-এর কার্যকারিতা লোপ পায়। তারই প্রেক্ষিতে অধ্যাদেশটি পরিমার্জন করে নতুনভাবে এই বিল আনা হয়। এর আগে ২০১৩ সালে আইনি শূণ্যতা সমাধানকল্পে এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
বিলে বলা হয়েছে, অবসরকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রীয় খরচে একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন এটেন্ড্যান্টসহ একটি দফতর পরিচালনার সুবিধা পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। এছাড়া বাসার একটি টেলিফোনের বিল রাষ্ট্র নির্বাহ করবে। অবসরকালীন সময়ে তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট লাভ করবেন। অবসর ভাতা গ্রহণের পর মৃত্যু হলে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিধবা স্ত্রী বা ক্ষেত্রমতে বিপত্নীক স্বামী মাসিক অবসর ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু অবসরভাতা পাবেন। এছাড়া কোন রাষ্ট্রপতি অবসরভাতার পরিবর্তে ইচ্ছা করলে অবসরভাতার পরিবর্তে এ ধারার বিধান অনুযায়ী আনুতাষিক গ্রহণ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আনুতোষিকের পরিমাণ হবে এক বছরের জন্য প্রদত্ত অবসরভাতার ততগুণ যত বৎসর কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ