• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

কে এই বদ বদরুল

বদরুলসিসি ডেস্ক: সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টাকারী বদরুল আলমের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মনিরজ্ঞাতি গ্রামের সৌদি ফেরত মৃত সৈয়দুর রহমানের ছেলে তিনি। এখনো ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বদরুলকে দেখতে যাননি তার মা, ভাই-বোনেরা। দক্ষিণ খুরমার মনিরগাতি উচ্চবিদ্যালয় থেকে বদরুল এসএসসি ও গোবিন্দগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ভর্তি হন শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ব্রেন স্ট্রোকে বাবার মৃত্যুর পর অর্থনীতির ছাত্র বদরুল অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে লজিং থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। শাবিতে ভর্তির পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সুমন গ্রুপে যোগ দেন তিনি। সর্বশেষ শাবি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এই দায়িত্ব দেওয়ার পর ১০ মে লেখা এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কৃতজ্ঞতা জানান বদরুল। বদরুলের ব্যক্তিগত ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসগুলোর বেশির ভাগই রাজনৈতিক ও উপদেশমূলক। খাদিজাকে কোপানোর কিছুক্ষণ আগে ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে বদরুল লেখেন, ‘নিষ্ঠুর পৃথিবীর মানুষের কাছে আমি সবিনয়ে ক্ষমাপ্রার্থী। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ছাড়া কেউ আপন নয়।’ এদিকে সিলেটের জাঙ্গাইল এলাকায় লজিং থাকাকালে স্কুলছাত্রী খাদিজাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতেন বদরুল। ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি খাদিজার গ্রামের পার্শ্ববর্তী জাঙ্গাইল এলাকায় স্থানীয়দের হামলার শিকার হন তিনি। এতে তার পায়ে, হাতে ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং পায়ের একটি রগ কেটে যায়। ওই সময় এ হামলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শিবিরকে দায়ী করেছিল। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর সুস্থ হন বদরুল। বদরুলের সহপাঠীদের অনেকেই জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত থাকাকালে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কলেজে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই তিনি খাদিজাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, বদরুল সৌদি ফেরত দরিদ্র কৃষকের সন্তান। চার ভাই এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় তিনি। চার বছর আগে বাবার মৃত্যু হয়। টানাপড়েনের সংসারের হাল ধরে রেখেছেন দর্জিদোকানি বড় ভাই। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে বদরুল ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ আয়েজুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ছোট দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন কৃষিকাজ করে এবং অন্যজন স্কুলে পড়ে। একমাত্র বোন ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ কলেজে স্নাতকের ছাত্রী। দক্ষিণ খুরমা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মছব্বির জানান, একসময় বদরুলকে ভালো বলেই জানতেন তিনি। শান্ত স্বভাবের ছিলেন। আগে রাজনীতি করতেন না। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে জামায়াত-শিবিরের হাতে গুরুতর আহত হন বদরুল। এরপর অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করা হয় তাকে। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের হাতে মার খাওয়ার পর বদরুল ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের সদস্য সুহেল মিয়া জানান, প্রকাশ্যে কলেজ ছাত্রীকে কুপিয়ে আহত করার মর্মান্তিক ঘটনাটি শোনার পর বদরুলের পরিবারের লোকজন বাকরুদ্ধ। তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে নিয়ে সংসারে সুখের স্বপ্ন আবর্তিত হতো। তার এমন অমানুষিক কাজে কোনো যুক্তি দাঁড় করাতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা। বদরুলের মা দিলারা বেগম সন্তানের অপকর্মের খবর শুনে শয্যাশায়ী। কোনো কথা না বলে নীরবে কেঁদে চলেছেন।’

প্রসঙ্গত, সোমবার সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে খাদিজাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বদরুল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। খাদিজা বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

উৎসঃ   বাংলাদেশ প্রতিদিন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ