সিসি ডেস্ক: ওং ল্যান ইং (৭৪) এর ছেলে-মেয়েদের সবাই ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন অনেক আগেই। তার সন্তানেরা ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে তারা ভাল মুসলমান হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেন।
ইং বৌদ্ধ ধর্মের হলেও তার সন্তান নাতি-নাতনিরা তাকে কখনো অসম্মান করে না। তাদের ধর্ম-কর্ম, তাদের ভাল ব্যবহার দেখে তিনি অভিভূত হন। একারণে তিনিও মনস্থির করেন ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার। আর এজন্য তিনি পবিত্র ঈদুল আজহার কুরবানির দিনটিকেই বেছে নেন।
গেল কুরবানির দিন উজতাজ কামারুদ্দিনকে আব্দুল্লাহকে সাক্ষী রেখে তিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর ইং বলেন, ‘আমি এই দিনটির জন্যই অপেক্ষায় ছিলাম।’
তার দুই ছেলে সাইফুদ্দিন আব্দুল্লাহ (৪৫) ও মুহাম্মদ জোহান আব্দুল্লাহ (৩৭) এবং মেয়ে সাবেক অভিনেত্রী এবং মডেল শিলা লামা আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘যদিও আমার সন্তান ও নাতি-নাতনিরা মুসলমান। তারা এখনো আমাকে সম্মান করে। এটাই ছিল আমার ইসলাম গ্রহণের প্রধান কারন।’
সাইফুদ্দিন আব্দুল্লাহ গেল ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে প্রথমবারের মতো কুরবানি দেন। তিনি বলেন, ‘ত্যাগের প্রকৃত অর্থের সন্ধান পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।’
সাইফুদ্দিন কুয়ালালামপুরের একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মচারী। তার কাজের প্রকৃতি এবং কাজের সময়ের কারণে এর আগে তিনি কুরবানি দিতে পারেন নি।
তিন সন্তানের এই জনক বলেন, ‘যদিও আমি ২০ বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করেছি। কিন্তু এই প্রথমবারের মত আমি কুরবানি করতে সক্ষম হলাম।’
স্বাধীন ইসলামী প্রচারক উজতাজ দানিয়াল হাফিজান ক্রিস্টোফার (৪০) বলেন, ‘আমি আশা করি নতুন ধর্মান্তরিতদের জন্য আমার সংগঠন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে; যেখানে নতুনরা ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে আরো বেশি জানার সুযোগ পাবে।’
মাওলাফ নেটওয়ার্ক অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক দানিয়াল হাফিজান বলেন, ‘নতুন ধর্মান্তরিতদের সাহায্য করার জন্য আমি সবসময় প্রস্তুত আছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এই সমিতি মালয়েশিয়ায় সক্রিয় আছে এবং নতুন মুসলিমদের সাহায্য করে থাকে যাতে তারা ইসলাম গ্রহণ করার পর নিজেদেরকে একঘরে অনুভব না করেন।’
সূত্র: দ্য স্টার অনলাইন