• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নীলফামারীতে দীর্ঘদিনেও চালু হয়নি একটি গভীর নলকুপ!

%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a4নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক ওয়ারিংম্যানের খপ্পরে পড়ে দীর্ঘ অর্ধ যুগেও চালু হয়নি একটি সরকারী গভীর নলকুপ। এদের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে গভীর নলকুপ আনয়নকারী একটি অসহায় কৃষক পরিবার। ওয়ারিংম্যানরা নানা অনিয়মের মাধ্যেমে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে জেলার জলঢাকা উপজেলার গড় ধর্মপাল গ্রামে। এ নিয়ে সরকারের একাধিক দপ্তরে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ দাখিল করলেও কোন ব্যাবস্থা নেয়নি পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ।

জানা যায়, জেলার জলঢাকা উপজেলার গড় ধর্মপাল মাঝাপাড়া গ্রামের ইব্রাহীম আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী ২০০২ সালে সমিতি গঠন করে ওই এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ লাইন নিয়ে আসে। ২০০৩ সালে ১০ কেভি ট্রান্সফরমারে তিনি একটি বৈদ্যুতিক সেচ যন্ত্র চালু করেন। ওই ট্রান্সফরমারেই ২০০৪ সালে তার আপন ভাই ইসমাইল এবং প্রতিবেশী মহসীন সেচ যন্ত্র চালু করে। ২০০৯ সালে সেচ কমিটি তৈরী করে ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৬১ টাকা জমা দিয়ে বিএডিসি’র একটি গভীর নলকুপ নিয়ে আসে ইলিয়াস। গভীর নলকুপটি বসানোর প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় তার ভাই ইসমাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ওয়ারিংম্যান কৈলাশ ও সম্রাটের যোগসাজশে একটি ভুয়া কমিটি তৈরী করে সরকারী গভীর নলকুপটি চালানোর চক্রান্ত শুরু করে এবং সেই সরকারী গভীর নলকুপটিকে নিজের বলে দাবী করে। এ নিয়ে নানা অভিযোগ ও মামলা মোকদ্দমা শুরু হলে জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করেন। এ তদন্ত প্রতিবেদনে ইসমাইলকে ভুয়া মালিক বলে জানানো হয়। এরপরেও সেই গভীর নলকুপটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এ কারনে ওই এলাকার অন্তত ৫০০ একর জমি বঞ্চিত হচ্ছে সরকারী সেচ সুবিধা হতে। পরবর্তীতে পল্লী বিদুতের সেই দুই ওয়ারিংম্যান কৈলাশ ও সম্রাটের নানা হয়রানির শিকারে পরিণত হয় ইলিয়াস। এমনকি ইলিয়াসের স্বাক্ষর জাল করে ওয়ারিংম্যান কৈলাশ অপর একজনকে ইলিয়াসের সেচ সংযোগ পাইয়ে দেয় এবং ইলিয়াসের নিজস্ব মোটরের সেচ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অদ্যাবদি ইলয়াসের সেচ সংযোগটি চালু করে দেয়নি পল¬ী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ। সেচ পাম্প বন্ধ থাকায় ২০০৯ সাল হতে ইরি আবাদ হতে বঞ্চিত হচ্ছে সেই কৃষক পরিবারটি। এক পর্যায়ে গভীর নলকুপটি স্থাপনের জন্য ওই স্থানে মালামাল নিয়ে আসে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। মালামাল নিয়ে আসার পরেও দীর্ঘ এক বছরেও তাদের দাবীকৃত ঘুষের ৭০ হাজার টাকা না দেয়ায় সংযোগটি দেয়নি পল্লী বিদুতের তৎকালীন জিএম। এক পর্যায়ে সেই সময়ের এজিএম মনোরঞ্জন রায় তার অফিসে ইলিয়াসকে আটক করে মামলা মোকদ্দমা পুলিশের ভয় দেখিয়ে গভীর নলুপের সংযোগের সকল মালামাল ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এর পরেই তার অফিস থেকে ইলিয়াসকে ছেড়ে দেয়। অসহায় সেই কৃষক এর প্রতিকার পর্যন্ত পায় নি সেই সময়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। ফলে সরকারী গভীর নলকুপ ও নিজের ব্যাক্তিগত মোটরের সংযোগ হারিয়ে সেচ বঞ্চিত হয় ইলিয়াস সহ শতাধিক ভুমি মালিক। অপরদিকে ইলিয়াসকে ফাসাতে অরো একাধিক মামলার আশ্রয় নেয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেই দুর্নীতিবাজ চক্রটি। সে সকল মামলা ভুয়া প্রমানিত হবার পরেও অদ্যাবদি চালু হয়নি সেই গভীর নলকুপটি। এক পর্যায়ে বিএডিসি তাদের গভীর নলকুপ বসানোর ব্যাপারে ইসমাইলের নামে আদালতে মামলা দায়ের করে। পল্লী বিদ্যুতের ওয়ারিংম্যান কৈলাশ ও সম্রাটের নানা ধরনের ভুয়া কার্যকলাপ ও দুর্নীতির কারনে পল্লী বিদ্যুৎ সরকারী গভীর নলকুপ স্থাপনের তাদের মালামাল সরিয়ে নেয়ার কারণ আজও রয়েছে সেই তিমিরেই। অপরদিকে সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা করে গভীর নলকুপের স্থানে ২০১১ সালে আজহারুল নামের এক ব্যাক্তির কাছ থেকে মোট অংকের উৎকোচের বিনিময়ে সেচ সুবিধার জন্য বৈদ্যুতিক সংযোগ পাইয়ে দেয় সেই দুই ওয়ারিংম্যান। সরকারী বিধি অনুযায়ী কোথাও সরকারী গভীর নলকুপ থাকলে সে স্থানে বেসরকারী সেচ সংযোগ দেয়া যাবে না। অথচ পল্লী বিদ্যুতের ওয়ারিংম্যান কৈলাশ ও সম্রাটের কাছে সরকারী এ বিধি উপেক্ষিত হয়ে আসছে বারবার। সরকারী গভীর নলকুপের সেচ সংযোগ দিতে বিভিন্ন সময়ে ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ নেয় ওয়ারিংম্যান কৈলাশ। তবুও সংযোগটি দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগে প্রকাশ। সেই সংযোগ চালু করতে বর্তমানে আরো ৭৫ হাজার টাকা দাবী করছে ওয়ারিংম্যান কৈলাশ। পল্লী বিদুতের সেই দুই ওয়ারিংম্যানের নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির কারনে সরকারী গভীর নলকুপটি দীর্ঘ অর্ধ যুগেরও বেশী সময়েও স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। সেই সাথে সর্বশান্ত হয়েছে একটি অসহায় কৃষক পরিবার। এ ব্যাপারে ওয়ারিংম্যান কৈলাশ ও সম্রাট তাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এ ব্যাপারে অফিসের লোকজন জানে, এখানে তাদের কোন হাত নেই।

এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র নীলফামারী জেনারেল ম্যানেজার এসএম হাসনাত হাসান জানান, সরকারী সংযোগ দিতে হবে তবে বেসরকারী সংযোগ দেয়া যাবে না। আমি নুতন এসেছি ওই ব্যাপারে তেমন কিছু জানি না তবে কেন সরকারী সংযোগ দেয়া হয়নি বিষয়টি এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ