দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জারদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার অতিবাহিত হয়েছে।
চাকুরী হতে ছাটাই বন্ধ এবং চাকুরী স্থায়ীকরনের দাবীতে মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার ঐক্য পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার ব্যানারে গত ৭ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে শ্রমিকরা অর্নিদিষ্টকালের এই কর্মবিরতির করে আসছে। এদিকে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি বেড়েছে।
জেলা সদরের উত্তর গোবিন্দপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কার্য্যালয়ের অভ্যন্তরে সমিতির কাহারোল, বিরল, বীরগঞ্জ, রানীরবন্দর, চিরিরবন্দর ও সদরের ১৬৫ জন শ্রমিক সারাদেশের অন্যান্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শ্রমিকদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে শ্রমিক ছাটাই বন্ধ এবং চাকুরী স্থায়ীকরনের দাবীতে কর্মবিরতি পালন করছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ড সদর দপ্তরের স্মারক পবিবো/সচিব(বোঃসঃ৪৯৪)/২০১৩/৫৩১ তারিখ-১৫/০১/২০১৩ দপ্তরাদেশ সভার নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত/সুপারিশ রয়েছে মিটার রিডারদের প্রতি বছর কর্মমূল্যায়ন ফরমের মাধ্যমে পুনরায় ৩ বছরের জন্যে এক সমিতিতে পর্যায়ক্রমে চুক্তিভিক্তিক ৩ বার নিয়োগের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেককেই অন্যান্য সমিতিতে নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই ৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত চাকুরী করার সুযোগ দেয়া হবে।
অথচ তা না করে অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিজেদের মনগড়া কর্মকান্ডের মাধ্যমে মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জারদের চাকুরী হতে ছাটাই করছেন যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। একজন কর্মচারী চাকুরী হতে ছাটাই হয়ে যাওয়ার পরে পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুন কষ্টের মধ্যে পরে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ে যান।
শ্রমিকরা আরো জানান, গতকালের শান্তির্পুণ কর্মবিরতি চলাকালে সভাস্থলে এসে শ্রমিকদের সাথে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর এজিএম (জিএস) আরিফুল করিম অশালিন আচরন করেছেন এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেননি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এজিএম (জিএস) আরিফুল করিম।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার কাজী মোহাম্মদ আলী জানান, সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুরেও শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। তারা কর্মবিরতিতে থাকায় কাজে যোগদান করেনি। এ বিষয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে তো কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারিনা। নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত দিবেন।