• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুরে পেপার মিলের বজ্যে বিষাক্ত হচ্ছে খড়খড়িয়া নদীর পানি

ইকুএম আর মহসিন: সৈয়দপুরে নীতিমালা লংঘন করে একটি পেপার মিলের  বিষাক্ত লিকুইড বজ্য অবাধে অপসারিত হচ্ছে খড়খড়িয়া নদীতে। এর প্রভাবে নদীর জলজ প্রাণি ও উদ্ভিদ মরে যাচ্ছে। পানি ব্যবহারকারিরা হচ্ছেন রোগাক্রান্ত। অব্যহত এ অবস্থা চলতে থাকলে হারিয়ে যাবে পানির অভ্যন্তরের জলজ প্রানি ও উদ্ভিদ এমনি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এখনি এ বিষাক্ত বজ্য অপসারন বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগিসহ সচেতন মহল।
জানা যায়, সৈয়দপুরের রাবেয়া মিল বাস স্টান্ড সংলগ্ন এলাকায় খড়খড়িয়া নদীর তীরে অবস্থিত ইকু পেপার মিল। নীতিমালা অনুযায়ি এ মিলের নেই কোন কেমিক্যাল বজ্য অপসারন ব্যাবস্থাপনা। তাই সরাসরি নদীর সাথে ড্রেনের সংযোগ ঘটিয়ে স্রোতের প্রবাহে অপসারন করা হচ্ছে। এতে নদীর পানি দুধের রঙ ধারন করে বিকট গন্ধ ছড়াচ্ছে। পানির নিচে বসবাসকারি মাছসহ বিভিন্ন ছোট-বড় প্রাণি ও উদ্ভিদ পানির বিষাক্ততায় মারা যাচ্ছে। এ পানি সেচে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে চাষাবাদ। পানি ব্যবহাকারিরা আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন চর্ম রোগে।
এ কাগজ তৈরী মিলের একটি গোপন সুত্র জানায়, কাগজ তৈরীতে পুরোনো কাগজের সাথে উপকরন হিসেবে কেমিক্যাল জাতিয় সিলিকেট, কাষ্টিক, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, পানি, হাইড্রোজেন, প্যারা-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফেট, ফিক্সিং এজেন্ট মিলে ১২ হতে তের ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়।
গত রবিবার মিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ¯্রােতের ধারায় ওই কাগজ তৈরীর মিলের কেমিকেল বজ্য খড়খড়িয়া নদীতে অপসারন করা হচ্ছে। এতে নদীর উপরি ভাগের পানির স্তরে দুধের বর্ণ ধারন করেছে। কেমিকেলের বিকট গন্ধ। সব মিলিয়ে এ নদীর পানিতে বসবাস কারিদেও জন্য একটি বিষাক্ত ক্ষেত্রতে পরিণত হয়েছে। এ মিলের জেনারেল ম্যানেজার একরামুল হক বলেন, নীতিমালা মেনেই মিলে উৎপাদন করা হচ্ছে। তবে ড্রেনটি নদীতে দেয়া হয়েছে। এতে ক্ষতি হলে আমরা অবশ্যই এর জন্য পৃথক ব্যাবস্থা করব। মিল কতৃপক্ষ বিকল্প ভাবে বিষাক্ত বজ্য অপসারনের কথা বললেও ইতিমধ্যে এ নদীর পানি ব্যবহারকারিরা এর প্রভাবে নানা অভিযোগ করেন।
আমিনুল নামে এ নদী সংলগ্ন এলাকার এক বাসিন্দা জানান, এ নদীর পানির রঙ দুধের মতো। বিকট গন্ধ। একবার গোসল করেই সারা গায়ে এলার্জি দেখা দিয়েছে। এ নদীর পানি দ্বারা ক্ষেতে সেচ কারী কৃষকরাও একই অভিযোগ করেন। মান্নান নামে এক কৃষক জানান, আমরা এ পানি ব্যাবহারের প্রভাব বুঝতে পারিনি। তবে শীত কালীন শাক-সব্জি ও আগামি রবি শষ্য চাষাবাদে বিকল্প সেচ ব্যবস্থার কথা ভাবতে হচ্ছে। এ নদীর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহকারি জেলেরা জানান, এখন নদীতে কেউ মাছ ধরতে যায় না চর্মরোগের ভয়ে। এছাড়া সারাদিন জাল ফেলে কোন মাছ পাওয়া যায় না।
এ নিয়ে সৈয়দপুর গবেষনা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক ড. রাশেদুল হাসান বলেন, এ বিষয়টি মৎস্য কর্মকর্তারা দেখবেন। তবে অবশ্যই মাছের জন্য অস্তিত্ব সংকটের দিক। এ নিয়ে এখনি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
সৈয়দপুর ডিগ্রি কলেজের প্রাণি বিদ্যা বিভাগের (বিভাগিয় প্রধান) সিনিয়র অধ্যাপক মতিউর রহমান বলেন, মাছ ও তাদের খাদ্য শৃঙ্খল এ পানির নিচে ছোট-বড় নানা শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ। যা প্রাকৃতিক ভাবে তৈরী হয়। পানিতে বিষক্রিয়া হলে পানির পিএইস বাড়ে। এতে মাছের খাদ্যসহ বসবাসের উপযোগি পরিবেশ নষ্ট হয়। এক পর্যায়ে ওই উৎস হতে মাছসহ অভ্যন্তরীন সব কিছুই বিলুপ্ত হতে পারে। এ বিষাক্ত পানির ছোবলে মানুষ ও চাষাবাদের ক্ষয়ক্ষতি এবং পানির নিচে শতকোটি ছোট-বড় প্রানি ও উদ্ভিদ ধ্বংসের আশংকা বিশেষজ্ঞরা করলেও সৈয়দপুর সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল বলেন ভিন্ন কথা। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, নদীর পানিতে বিষাক্ত বজ্য অপসারন বিষযটি পরিবেশ অধিদপ্তর দেখবেন। আর মাছের বসবাসের ব্যবস্থাপনায় বিষ বজ্য অপসারন যাতে করতে না পারে এর জন্য যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ