সিসি ডেস্ক: বহুল আলোচিত সাত খুন মামলা থেকে সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া ইকবাল নামে এক জনের সঙ্গে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপি মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানের একসঙ্গে প্রচার চালানোর ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ সর্বত্র তোলপাড় হয়েছে।
সাত খুনের মামলা হাতে নিয়ে সাখাওয়াত আজ দেশব্যাপী আলোচিত। বেগম জিয়ার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে মেয়র প্রার্থীও হয়েছেন। সেই ব্যাক্তিই যখন ভোটযুদ্ধে অব্যাহতি পাওয়াদের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করছেন তখন এর সঙ্গে অনেক সন্দেহ মাথাচাড়া দেয়। অভিজ্ঞরা বলছেন, অব্যাহতি পাওয়াদের বিরুদ্ধে এক সময় মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় থাকতেন সাখাওয়াত। অথচ সময়ের প্রেক্ষাপটে সেই তিনিই এখন তাদের সঙ্গ নিচ্ছেন। এতে শুধু নারায়ণগঞ্জ কিংবা নিহতদের পরিবার নয়, দেশব্যাপী অভিজ্ঞ মহলেরও নানা প্রশ্ন উঠতে পারে।
সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৫জনকে অপহরণ শেষে হত্যার ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এ মামলায় নূর হোসেনসহ ৬জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ওই ৬ জনের একজন হলেন ইকবাল হোসেন। সম্প্রতি এই মামলা থেকে অব্যাহতি পান ইকবাল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তার রাজনৈতিক দাপট আর ক্ষমতার অপব্যবহার ঠিক আগের মতোই আছে। এই ইকবাল এখনো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের একজন। সাত খুনের ঘটনার আগে নূর হোসেনের মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, জমি দখল বালু মহল দখলের অন্যতম সহযোগীও ছিলেন তিনি । তার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা তদন্তাধীন ও একটি বিচারাধীন রয়েছে।
২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নজরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ইকবাল হোসেন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় নজরুলের মনোনয়ন বাতিলের জন্য বিভিন্ন মামলার কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেন ইকবাল। এতে নজরুলের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয় বাছাই কমিটি। এ কাজে ইকবালকে সহযোগিতা করেন মামলার ৩ নম্বর আসামি হাসু, ৪ নম্বর আসামি আমিনুল ইসলাম রাজু ও ৫ নম্বর আসামি আনোয়ার আশিক। এসব কারণে ইকবাল, হাসু, আনোয়ার ও রাজুর সঙ্গে নিহত নজরুলের চরম বিরোধ ছিল।
স্থানীয় গণমাধ্যমে সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জে গণসংযোগের সময়ে ইকবালের হাত থেকে ‘ধানের শীষ’গ্রহণ করেন সাখাওয়াত। আর সেই দৃশ্যপটে হাসিমুখে ছিলেন সাখাওয়াত। এরপর দুজনে দীর্ঘক্ষণ এক সঙ্গে হেঁটে ভোটারদের কাছে ভোট চান। এছাড়া ইকবালের সঙ্গে সাখাওয়াতের দীর্ঘক্ষণ আলোচনাও হয়েছে। এ নিয়ে নারায়াণগঞ্জ-জুড়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। কেউ বলছেন, ভোটের রাজনীতিতে সব জায়েজ, বেশি ভোটে জেতাই আসল কথা। কেউ বলছেন, নীতি নৈতিকতা বলে কি কিছুই থাকবে না?