নারায়নগঞ্জ: জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় থাকা বিএনপি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। পাশাপাশি আইভী-শামীম ইস্যুও বেশ জট পাকাচ্ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।
তবে প্রতিদিনই সমান তালে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই মেয়র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সেলিনা হোসেন আইভী ও সাখাওয়াত হোসেন খান। ছুড়ছেন এসে অপরের প্রতি তীক্ষ্ণ বাক্যবাণও।
বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মিলনায়তনে এক গোলটেবিল বৈঠকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছুড়েন এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী।
এক পর্যায়ে হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে সাখাওয়াত হোসেনকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লে তিনি নীরবতা ঘটান। ওই গোলটেবিল বৈঠকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপস্থিত প্রার্থী, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরা।
সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ফি বৃদ্ধির অভিযোগ এনে আইভীকে উদ্দেশ্য করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নগরীর হোল্ডিং ট্যাক্স হাজার গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে সেটা লক্ষাধিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জে হাজার হাজার মানুষ ব্যবসা করে তাদের ট্রেড লাইসেন্স ৫০০/৬০০ টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করা হয়েছে। কোন ক্ষেত্রে আরও বেশি হয়েছে।’
সাখাওয়াত হোসেনকে উদ্দেশ্য করে আইভী বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের জন্ম ৫ মে ২০১১ সালে। সে অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের বয়স মাত্র ৫ বছর। আমার কোন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল না হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়াবো। তদরূপ হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর কোন প্রতিশ্রুতি দেই নাই। সরকার এবার নিয়ম পাল্টিয়ে যে নিয়ম করেছে সারা বাংলাদেশে হোল্ডিং ট্যাক্স ১৭ শতকর সঙ্গে আরো ৩ শতকরা যোগ হয়ে ২০ শতকরা আদায় করা হচ্ছে। ২০০৯ সালের আইনে বলা হয়েছে ৭৫ শতকরা ট্যাক্স আদায় না হলে সরকার চাইলে যেকোন সময় এ সিটি করপোরেশনের পরিশোধ বা পৌরসভার পরিষদ যে কোন সময় ভেঙে দিতে পারে। যা সরকার ক্ষমতা রাখে।’
ব্যবসায়ীদের ট্যাক্স বাড়িয়ে দেয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইভী বলেন, ‘এটা নির্বাচনী স্ট্যান্ডবাজী। এটা সরকার কর্তৃক করে দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স বাড়ানো কমানোর দায় দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের না।’
এক পর্যায়ে সাখাওয়াতকে উদ্দেশ্য করে আইভী বলেন, ‘সাখাওয়াত ভাই আপনার হোল্ডিং নম্বর কত আমাকে বলেন। আর আপনার কত টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স ধরা হয়েছে।’ হোল্ডিং ওই প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত কোন উত্তর দিতে পারেনি। এখানে উল্লেখ্য যে, সাখাওয়াত শহরের খানপুর এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
আইভী বলেন, ‘সাখাওয়াত ভাইকে আশ্বস্ত করে বলছি, উনি যদি নির্বাচিত হন আমি সবার আগে গিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানাব, মিষ্টি খাওয়াব। আশা করি, আমি জিতলে তিনিও আমাকে অভিনন্দন জানাবেন এবং মিষ্টি খেয়ে যাবেন।’
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যতিত্ব রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, নারী মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা আক্তার, ১৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৩, ১৪, ১৫ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী পপি রাণী সরকার, প্রথম আলোর পরামর্শক কামাল আহমেদ প্রমুখ।