তোফেয়েল আহমেদ পাপ্পু, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিজিবি ও পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ব্যবসায়ী সমিতির ডাকে আজ শুক্রবার সকাল ৬ টা থেকে অনিদিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা পর্যটকরা।
গতকাল সন্ধ্যা ৫ টার দিকে বিজিবির সদস্যরা শহরে ঢুকে নির্বিচারে পথচারী পর্যটকদের ওপর ও ব্যবসায়ীদের উপরে গুলি ও লাঠি পেঠা করে। এমন কি সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাংচুর করে তারা ।
পরিবহন শ্রমিকদের উপর হামলার বিচার এবং বেপোরোয়া ভাবে গাড়ী ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্টান ভাংচুরে ক্ষতি পূরনের দাবীতে শ্রীমঙ্গল সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ব্যবসাযী সমিতি ধর্মঘট পালন করছে বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সঞ্জিত কুমার দেব ও শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ লুৎফুর রহমান।
আজ শুক্রবার সকাল থেকে শ্রীমঙ্গলে সকল স্থানীয় পরিবহন বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। এছাড়া শহরের প্রায় দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যদিও ছুটির দিন এবং ঘন কুয়াশার জন্য রাস্থায় সাধারন মানুষ কম রয়েছেন। তবে শ্রীমঙ্গল পর্যটন এলাকা হওয়ায় পর্যটক ও সাধারন মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, ঘটনা তদন্তে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। একই সাথে তিনি পর্যটকদের বিষয়টি বিবেচনা করে ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।
শ্রীমঙ্গল বিজিবির অধিনায়ক ল্যাফটেন্যান্ট কর্ণেল সাজ্জাদ সাংবাদিকদের জানান, পরিবহন শ্রমিকরা বিজিবি উপর হামলা চালিয়েছে। বিজিবি আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। ভাংচুর ও সংঘর্ষের জন্য বিজিবি দায়ী নয় বলে তিনি জানান। এদিকে এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক আহমদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার গাড়ি পার্কিং নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে শ্রীমঙ্গলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে দুই ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় কমপক্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়েছে। হামলা-সংঘর্ষে ২ শতাধিক যানবাহন ও শতাধিক দোকান পাট ভাংচুর হয়েছে। এ ঘটনায় সারা শহরের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদে চলে যায়। শহরে ভুতূড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। আজ শুক্রবার বিকাল ৩টায় শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেট বিভাগীয় ও জেলা-উপজেলার পরিবহন শ্রমিকদের উচ্চ নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।