• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন |

রাজারহাটের পাঠানহাট মাদ্রাসা সুপারের নিয়োগ বাণিজ্য ভন্ডুল

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রাপ্ত অফিস সহকারী থাকা সত্ত্বেও শুন্য পদ দেখিয়ে তার স্থলে গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ১২ লক্ষ টাকার নতুন নিয়োগ বাণিজ্য করার পায়তারা করে মাদ্রাসা সুপার। এনিয়ে গত সোমবার বিকেলে  রাজারহাট সহকারী জজ আদালতে মামলা হওয়ায় সুপারের নিয়োগ বাণিজ্যের চেষ্টা ভেস্তে যায়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই উপজেলার পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী পদে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে মাদ্রাসার তৎকালীন সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের উপস্থিতিতে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহনকারী ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে আরিফুল ইসলাম নামের এক যুবক প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরই প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ২০০৮ সালের ২৬ আগষ্টের  সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরদিন ২৭ আগষ্ট তাকে নিয়োগ পত্র প্রদান করে। পরে  ৩০আগষ্ট তিনি উক্ত অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন।
পরবর্তীতে সুপার ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষরীত কাগজপত্র দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে উক্ত অফিস সহকারী পদে একাধিকবার এমপিও ভূক্তির জন্য কাগজপত্র প্রেরন করা হয়। মাদ্রাসা সুপার এমপিও ভূক্তি খরচের কথা বলেও তার নিকট একাধিকবার টাকা গ্রহন করেন। তারপরও মাদ্রাসা সুপার আ,খ,ম মোখতার আলীর অসহযোগীতা, ভূল তথ্য প্রেরন করা এবং ডিজিতে এমপিও না হওয়ার জন্য সুপার কর্তৃক তদবীর করে আসায় দীর্ঘদিনেও ওই অফিস সহকারীর এমপিও ভূক্তি হয়নি। পরে সুপার তার কাছে আরো মোটা অংকের টাকা দাবী করলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে সুপার রাগাম্বিত হয়ে তার সামনেই নতুন নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
সুপার মাদ্রাসা কমিটির বর্তমান সভাপতির সাথে যোগসাজস করে গোপনে গত ২৯ ডিসেম্বর ১৬ ইং রংপুর থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় অফিস সহকারীর শুন্য পদ দেখিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে অফিস সহকারী আরিফুল ইসলাম গত ১৬ জানুয়ারী রাজারহাট সহকারী জজ আদালতে মাদ্রাসা সুপার, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করে একটি অন্য মোকদ্দমা (নং-০৪,তারিখ-১৬/০২/১৭) দায়ের করেন। এর আগে তিনি গত ১০ জানুয়ারী জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন বলে জানা যায়।
এদিকে অফিস সহকারী থাকা সত্বেও ওই পদে নিয়োগ বাণিজ্যের পায়তারা চালায় উক্ত মাদ্রাসা সুপারের প্রতি এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা সুপারের বিচার দাবী করেন।
উল্লেখ্য ওই মাদ্রাসার বিতর্কিত পরিচালনা কমিটি নিয়ে আদালতে আরো একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আরিফুল ইসলাম জানান, শুনেছি ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সুপার আমার পদে অন্য একজনকে নিয়োগের পায়তারা করছেন। আমি আদালতে আমার পদ বহাল রাখার জন্য মামলা করেছি।
এবিষয়ে মাদ্রাসা সুপার আ,খ,ম মোক্তার আলী জানান, আমার অজান্তে মাদ্রাসার সভাপতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ