রংপুর: রংপুরের পীরগাছায় ফটো ষ্টুডিও ব্যাবসায়ী শহিদুল ইসলাম চুন্নু হত্যা মামলায় ৪ আসামীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২ এর বিচারক আবু জাফর মোঃ কামরুজ্জামান এ রায় প্রদান করেন। এ সময় ৪ আসামীর মধ্যে সিরাজুল নামের একজন উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা এখনো পলাতক রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি ফারুখ মো: রেয়াজুল করিম জানান, রংপুরের পীরগাছা উপজেলা সদরের দীনা ষ্টুডিও ব্যবসা করতো শহিদুল ইসলাম চুনুর। ২০১২ সালের ২৩ আগষ্ট রাতে নিঁেখাজ হলে স্ত্রী নার্গিস পরের দিন পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই দিনই পুলিশ রংপুরর মিঠাপুকুরে একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেল মর্গে প্রেরণ করে। খবর পেয়ে চুন্নুর স্বজনরা গিয়ে লাশ সনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহত চুন্নুর বড় ভাই আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে, পুলিশ ৫ আসামীর বিরুদ্ধে চুড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আসামী সিরাজুল ইসলাম, জুয়েল, শাহিন, সুজন, আলম ওরফে আসলামকে দোষি সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করার আদেশ দেয় আদালত। আর আসামী পক্ষেও আইনজিবী ছিলেন সাজ্জাদ শিকদার।
রংপুরে দিবাকালীন আন্তঃনগর ট্রেনের দাবিতে রেল ধর্মঘট পালিত
রংপুর-ঢাকা রুটে দিবাকালীন অত্যাধুনিক আন্ত:নগর ট্রেন এবং চলমান ট্রেনসমূহে নতুন আধুনিক কোচ সংযোজন ও বন্ধ থাকা সকল ট্রেন চালুর দাবিতে রংপুর রেল স্টেশন ঘেরাও, অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। এ কর্মসূচী চলাকালে রংপুরের সাথে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সকল প্রকার রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। আন্দোলনকারীরা রেল আটকিয়ে বিক্ষোভ করে। রংপুরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, ছাত্র-যুব সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ এ কর্মসূচি পালন করে। রংপুর বিভাগ উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদ এ কর্মসূচীর আয়োজন করে। সমাবেশে পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক ওয়াদুদ আলী জানান, ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকগুলো ট্রেনের অত্যাধুনিক কোচ এনে সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক করে নতুন ট্রেন চালু করা হলেও বিভাগীয় নগরী রংপুরে কোন ট্রেন দেওয়া হয়নি। এ কারণে রংপুর জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ হতাশ ও ক্ষুদ্ধ। জানা যায়, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রংপুর থেকে ঢাকা চলাচলকারী আন্ত:নগর ‘একতা’ ও ‘তিস্তা’ এক্সপ্রেস নামের ট্রেন দুটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এই দুটি ট্রেনে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ নিরাপদ এবং আরামদায়ক পরিবেশে ঢাকায় যাতায়াত করছিলো। ট্রেন দুটি বন্ধ করে দেয়ায় উত্তরের ৮ জেলার মানুষ যাতায়াতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পথে ঢাকা-রংপুর যাতায়াত করছেন। বন্ধ হওয়া আন্ত:নগর ট্রেন দুটি চালুর দাবিতে রংপুরের মানুষ দীর্ঘদিন আন্দোলন, সংগ্রাম করলেও তৎকালীন সরকার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রংপুরবাসী পুনরায় এ দাবি সামনে নিয়ে আসেন। ফলে, সরকারের পক্ষ থেকে আন্ত:নগর ট্রেন দুটি চালুর সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা চালু না হওয়ায় রংপুরের মানুষ ২০১০ সালে ‘রংপুর বিভাগ উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদ’ গঠন করে এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি রংপুর-ঢাকা রুটে আন্ত:নগর ট্রেন ‘তিস্তা’ ও ‘একতা’ পুনরায় চালুর দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। পরিষদের উদ্যোগে ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারি দিনভর রেলপথ অবরোধ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যোগাযোগ মন্ত্রীসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপিও পেশ করা হয়। পরবর্তীতে রংপুর বিভাগ উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সর্বস্তরের জনসাধারণের স্বত:স্ফূর্ত আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল হিসেবে রংপুর থেকে সরাসরি ঢাকাগামী আন্ত:নগর ট্রেন ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ চালু করা হয়। এদিকে ঘেরাও, অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, রংপুরের মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি, ছাত্র-যুব সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ক্লোজআপ তারকা রুমি, ক্লোজআপ তারকা বাপ্পি, চ্যানেল আই তারকা উদীয়মান কন্ঠাশীল্পি এসকে শানু, র্যাপ ব্যান্ড আরএএনজি স্কোয়াড, আর্টটাচ, দ্যা ওয়ান, রিনিঝিনি নৃত্য গোষ্ঠিসহ রংপুরের প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতি কর্মীরা।