২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারী সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে ঈদ পূণর্মিলনী উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ ৫ জন। হামলায় আহত হন অন্তত আরও ৪৩ জন। এ ঘটনায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। উভয় মামলায় একাধিকবার তদন্ত হয়। সর্বশেষ তদন্তে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের মেয়র জি কে গউছসহ ৩২ জনকে আসামীভূক্ত করা হয়। এর মাঝে আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গউছসহ ১০ জন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে, ৮ জন পলাতক ও ১৪ জন কারাগারে আটক আছেন।
মামলা দু’টির বাদি বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান এমপি বলেন, তদন্তে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে।‘ সবকিছুর শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দিয়ে মামলাটি বিচারের পর্যায়ে নিয়ে আসেন। মামলায় অনেক সাক্ষি। মোট ১৭১ জন সাক্ষি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের ৪৩ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষিদের কেউ কেউ এখনও বাকি রয়ে গেছেন। ফলে দেরি হওয়ার জন্য নিহতদের পরিবারগুলোর মাঝে কিছু শংকা থাকতেই পারে। তবে কেউ দায়মুক্তি পাবেনা বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এ ঘটনায় আহত জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির জানান, আইন নিজস্ব গতিতেই চলছে। তিনি আশা করেন দ্রুততম সময়ের মাঝেই ভয়াবহ এ হত্যাকান্ডের বিচার সম্পন্ন হবে। নিহত আব্দুর রহিম, সিদ্দিক আলী ও আবুল হোসেনের স্বজনরা জানান, তারা শুধু শুনেই আসছেন বিচার হবে। কিন্তু শুধু বিলম্বিতই হচ্ছে এ হত্যাকান্ডের বিচার। তারা ইতিমধ্যে সাক্ষিও দিয়েছেন।