জাহাঙ্গীর আলম: ফুলকে ভালোবেসে ফুলের ফেরিওয়ালা হয়েছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা বজরের খামার গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩৮)। শীতকাল এলেই তিনি ভ্যান গাড়িতে করে বিভিন্ন জাতের ফুলের চারা নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন ফুলবাড়ী উপজেলার ফুল প্রেমীদের দ্বারে দ্বারে। ফুলের চারা নিয়ে শহরের অলিগলি ও প্রামের নিভৃত এলাকাতেও ছুটে বেড়ান তিনি । গোলাপ, গাঁদা, ডালিয়া, কচমচ, নয়নতারা, বকুল, রঙ্গন, স্টারসহ প্রায় ৫০/৬০ প্রকার ফুলের চারা তার কাছে পাওয়া যায়।
রফিকুল ইসলাম জানান, আগে তিনি রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে উপার্জন করতেন। কিন্তু এতে তার ৭ সদস্যের ভরণ-পোষণ হত না। কষ্টে দিনাতিপাত করতে হত তাকে। ভাবলেন ফুলবাড়ীতে আর কি করা যায়। সেই ভাবনা থেকে তিনি ফুলের চারা বিক্রি করার মনস্থ করেন। এছাড়া তিনি নিজেও খুব ফুল পছন্দ করেন।
তিনি আর জানান নাম ফুলবাড়ী হলেও এখানে তেমন ফুলের বাগান নেই। ফুলের বাগান যাতে বাড়ি বাড়ি হয় এই চিন্তা থেকে রফিকুল ফেরি করে ফুলের চারা বিক্রি শুরু করেন। এর সাথে ফুলের উপর গভীর ভালোবাসাটি তাকে ফুলের ফেরিওয়ালা করেছে এমন কথা জানান তিনি।
সামান্য পুঁজি নিয়ে নার্সারি থেকে পাইকারি দরে ফুলের চারা কিনে বিক্রি করেন রফিকুল। প্রতি চারা থেকে তার ৫-২৫ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। ফুলের চারা বিক্রি করে তার দৈনিক আয় হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা। ফুলের চারা বিক্রি করে পরিবারে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বেশ ভালই আছেন তিনি।
রফিকুল ইসলামের দাবি তাকে ফুলের চারা বিক্রিতে কেউ আর্থিক সহযোগিতা করলে তিনি ফুলবাড়ীতে একটি ফুলের নার্সারি গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি এখানকার বাড়ি বাড়ি ফুলবাগান গড়ার অনুপ্রেরণা যোগাবেন।