• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

পায়ে হেঁটে ৬৪ জেলা ভ্রমন করেছেন নাসিম

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুরের যুবক নাসিম তালুকদার পায়ে হেঁটে ৬৪ জেলা ভ্রমন সমপ্ত করেছেন। মঙ্গলবার (৭ ফ্রেব্রুয়ারী) দুপুরে তিনি দিনাজপুর এসে পৌঁছলে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষ তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
২০১৬ সালে ২২ অক্টোবর শনিবার সকাল ৯টায় ‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষৎ, আর নয় শিশু শ্রম, এবার চাই শিক্ষা’ এ শ্লোগান নিয়ে দিনাজপুর জিরোপয়েন্ট থেকে দেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন উদীয়মান তরুণ শিক্ষার্থী রোভার স্কাউট নাসিম তালুকদার।
প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০ কি. মি. রাস্তা হেঁটেছেন তিনি। দিনাজপুর থেকে হেঁটে বিরামপুর হয়ে ১০৮ দিনে দেশ ভ্রমণ করে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে এসে সমাপ্ত করেন তাঁর এ ভ্রমণ।
মো. নাসিম তালুকদার দিনাজপুর কেবিএম কলেজ থেকে সদ্য এইচএসসি পাস করেছেন। এক ভাই ও দুই  বোনের মধ্যে নাসিম সবার বড়। মা নাসিমা খানম বাকপ্রতিবন্ধী। পেশায় গৃহিণী। বাবা হারুনুর রশিদ বাচ্চু পেশায় কৃষক। ছোটবেলা থেকে নাসিমকে লালন-পালন করেছেন তার নানি দিনাজপুর উপশহর ৫ নং ব্লকের বাসিন্দা রহমত আরা।
নাসিম তালুকদার বলেন, ২০০৬ সালের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসেব অনুযায়ী দেশে প্রায় ৭৪ লাখ শিশু শিশুশ্রমে নিয়োজিত। এদের মধ্যে ১৩ লাখ শিশু অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রয়েছে বলে জানা গেছে।
বেসরকারি পরিসংখ্যানের হিসেবে দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা রয়েছে ৭০ লাখ। আর ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রমিকের কাজ করছে ১৫ লাখ। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ১৪ বছরের নিচের শিশুরা কেউ কোনো ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। অথচ এটি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণই দেখা যায় না।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষা ও খেলাধুলা থেকে দূরে রয়েছে এমন শিশুদের সংখ্যা দিনাজপুরেও কম নয়। মিল, কলকারখানার বিভিন্ন কাজে শিশুরা হাড়ভাঙা শ্রম দিচ্ছে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কথাতুুলে ধরে তিনি জানান, শিশুরা যাতে তাদের অধিকার নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে সেদিকে সবার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে হেঁটে দেশ ভ্রমণে বের হয়েছেন তিনি।
হেঁটে ১০৮ দিনের দেশ ভ্রমণে প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ, সচেতন মানুষ, শিল্পপতি, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
তাঁর ভ্রমণর সংক্ষিত একটি প্রতিবেদন তৈরি করে আনুষ্ঠানিকভাবে তা মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তুলে ধরার ইচ্ছা পোষণ করেন নাসিম তালুকদার।
তিনি জানান, তার সঙ্গে দেশের আরও ৪টি জেলার মোট ৮ জন সফরসঙ্গী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এর মধ্যে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার আতিকুজ্জামান ও তৌহিদুর রহমান, পাবনা, রাজশাহী ও ঢাকা থেকে আরো ৬ জন সঙ্গী হতে চেয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কেউ যুক্ত হননি।
নাসিম তালুকদা বলেন, হেঁটে চলতে গিয়ে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার লোহাগড়া উপজেলায় যাওয়ার পথে তাকে ছিনতাইকারিদের কবলে পড়তে হয়। সেখান থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে রক্ষা পান তিনি।
এছাড়া বান্দরবন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি জেলাগুলো ভ্রমণের সময় পাহাড়গুলোতে উঠতে আমাকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। বাংলাদেশ রোভার স্কাউট অঞ্চলের সম্পাদক একেএম সেলিম চৌধুরী ও যুগ্ম সম্পাদক সোহেল আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। নাসিম তালুকদার জানান, চট্টগ্রামে গিয়ে তার যাত্রা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে থমকে যায়। সে সময় ‘চলবে ডটকম’ তার পাশে দাঁড়ায় তারা স্পন্সর করে। ফলে তার যাত্রা আর ব্যাহত হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ