আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই শতাধিক নারীকে ধর্ষণ ও ৫০০ জনকে হত্যার কথা অবলীলায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের এক সদস্য। পৈশাচিক ওইসব জঘন্য অপরাধের জন্য অবশ্য তার কোনো অনুশোচনা নেই।
জঙ্গি আমর হুসেইন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা স্বীকার করে। বর্তমানে সে ইরাকের কুর্দি কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দী। কুর্দি গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমর হুসেইন ও আইএসের আরেক জঙ্গি আবদেল রহমানের সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ পায় রয়টার্স।
ওই দুজনকেই গত অক্টোবরে এক অভিযানে আটক করা হয়। ওই লড়াইয়ে বেসামরিক লোক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ৯৯ জন এবং আইএসের ৬৩ জন নিহত হয়।
হুসেইন জানায়, তার আমির বা আইএসের স্থানীয় কমান্ডাররা ইয়াজিদি সম্প্রদায়েরসহ অন্য নারীদের যত খুশি ধর্ষণ করার বিষয়ে সবুজ–সংকেত দেয়। হুসেইন দাবি করে, তরুণদের জন্য এটা প্রয়োজন। এটা স্বাভাবিক।
সাক্ষাৎকারে হুসেইন বলে, ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) যখন একের পর এক এলাকা দখল করে নেয়, ওই সময়ে সে তাদের দখল করা শহরগুলোর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইয়াজিদিসহ অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের ধর্ষণ করতো। হুসেইনের এ বক্তব্য অবশ্য রয়টার্স নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।
কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, হুসেইনের ধর্ষণ ও হত্যার প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। তবে হুসেইন কী মাত্রায় সহিংসতা চালিয়েছে, তা তারা জানেন না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ইরাকের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৪ সালে ইরাকের উত্তরাঞ্চলজুড়ে তাণ্ডব চালানোর পর আইএসের জঙ্গিরা ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের বহু নারীকে ধর্ষণ করে। আইএস ওই সম্প্রদায়ের অনেক নারীকে অপহরণ করে যৌনদাসী বানায় এবং ওই নারীদের পুরুষ আত্মীয়দের অনেককে হত্যা করে। ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের ওপর আইএসের এই সহিংসতার বিষয়টি নিয়মিতভাবে বলে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
হুসেইন জানায়, ২০১৩ সালে আইএসে যোগদানের পর সে প্রায় ৫০০ জনকে হত্যা করেছে। যাকে গুলি করা দরকার তাকে গুলি করেছি। যাকে শিরশ্ছেদ করা দরকার তাকে শিরশ্ছেদ করেছি, বলে আমার।
হত্যা করার জন্য আমির তাকে কীভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, তা স্মরণ করে হুসেইন বলে, প্রথম দিকে আমির যখন প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে হত্যা করার জন্য এক ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে আসে, তখন বিষয়টা কঠিন ছিল। তবে আস্তে আস্তে হত্যা করা সহজ হয়ে যায়।
হুসেইন বলে, ৭, ৮, ১০ জনকে একসময়েই হত্যা করতাম। কখনো কখনো ৩০ বা ৪০ জনকেও। আমরা তাদের মরুভূমিতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করতাম। আমি তাদের মরুভূমিতে বসিয়ে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মাথায় গুলি করতাম। এসব ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।
হুসেইন বলেন, আমার কাছে কোনো অর্থ ছিল না। কাজ ছিল না। কোনটি ভালো আর কোনটি খারাপ, তা বলার কেউ ছিল না। আমার বন্ধু ছিল কিন্তু কেউ আমাকে কোনো পরামর্শ দেয়নি।
গত অক্টোবরে আটক করার পর থেকে হুসেইনকে জানালাবিহীন একটি কক্ষে রাখা হয়েছে।
হুসেইন আরো জানায়, তার বয়স বর্তমানে ২১ বছর। আইএসে যোগ দেয়ার সময় তার বয়স ছিল ১৪ বছর।
হুসেইনের সঙ্গে আটক হওয়া আরেক জঙ্গি হলেন আবদেল রহমান। সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা জানিয়েছে, তিনি আইএসের তল্লাশিচৌকিতে কাজ করতেন। তিনি তার অভিজ্ঞতার বিষয়ে বিশেষ কোনো তথ্য দেননি।
পৃথক সাক্ষাৎকারে আবদেল রহমান রয়টার্সের কাছে কিরকুকে অভিযানের সময় গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, তিনি কখনোই হত্যা করেননি। তিনি এবং তার ভাই আইএসে যোগ নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য। তা না হলে আইএস তাদের হত্যা করতো বলে জানান আবদেল রহমান।