• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

রংপুরে কুনিও হত্যায় ৫ জনের ফাঁসি

বিশেষ প্রতিনিধি: রংপুরের কাউনিয়ার চাঞ্চল্যকর জাপানি নাগরিক হোসিও কোনি (৬৬) হত্যা মামলায় ৫ জেএমবি সদস্যের ফাঁসির দণ্ডাদেশ এবং একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে রংপুর স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার এই আদেশ দেন।
ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- জেএমবি উত্তরাঞ্চলীয় কিলিং কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন, জেএমবি সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ওরফে শফিক, লিটন মিয়া, ইসহাক আলী এবং আহসানুল্লাহ আনছারী। আর খালাসপ্রাপ্ত হলেন- আবু সাইদ। এর মধ্যে আনছারুল্লাহ আনছারী পলাতক আছে।
রায়ের পর পিপি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। যাকে খালাস দেয়া হয়েছে তার ব্যাপারে নথিপত্র পর্যালোচনা করে আপিল করা হবে।
আর আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, রায়ে তারা অসন্তুষ্ট, নথিপত্র পাওয়ার পর উচ্চতর আদালতে আপিল করা হবে। রায় উপলক্ষে সকাল থেকেই আদালতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্বা ব্যবস্থা নেয়া হয়।
রংপুর স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিক জানান, চাঞ্চল্যকর জাপানি নাগরিক কোনি হোসিও হত্যা মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালতের বিচারক আসামি উগ্রবাদি জঙ্গি জেএমবির উত্তরাঞ্চলের কিলিং স্কোয়াড লিডার রংপুরের পীরগাছার পশুয়া এলাকার মাসুদ রানা ও এছাহাক আলী, বগুড়া গাবতলীর লিটন মিয়া, গাইবান্ধার সাঘাটার সাখাওয়াত হোসেন এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাটের আহসান উল্লাহ আনছারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এর মধ্যে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ আনছারী পলাতক আছে।
অপর আসামি রংপুরের পীরগাছার কালিগঞ্জ এলাকার আবু সাইদকে আদালত খালাস দিয়েছেন। তার ব্যাপারে নথিপত্র উঠানোর পর যাছাই বাছাই করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
তিনি আরো জানান, এই মামলায় অপর অভিযুক্ত রাজশাহীতে নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান ৩ আগস্ট ২০১৬ পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এবং সাদ্দাম হোসেন ঢাকায় ৫ জানুয়ারি পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।
তিনি রায়ের ব্যাপারে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই রায় জনগনের প্রত্যাশিত রায়। এই রায়ের মাধ্যমে দেশে এবং বিশ্বে একটিই ম্যাসেজ যাবে, যত গোপনিয়তা করেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হোক না কেন, তার বিচার হয়। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
তিনি বলেন, মামলাটির জন্য ১০ দফায় বাদীপক্ষে ৫৬ জন এবং আসামিপক্ষে ১ জন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। ১৯ ফেব্রুয়ারি উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটির রায়ের দিন মঙ্গলবার তারিখ নির্ধারন করেছিলেন আদালত।
পিপি জানান, বিদেশি নাগরিক হত্যা করতে পারলে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। তখন বাংলাদেশে ইসলামী হুকমাত কায়েম করা যাবে। জেএমরি এ ধরনের সাংগঠনিক নির্দেশনার প্রেক্ষিকেই জেএমবি কিলিংমিশনের সদস্যরা এই জাপানি নাগরিক হোসিও কোনিকে হত্যার পরিকল্পনা করে ও তাকে হত্যা করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। পুলিশ শক্তভাবে মামলাটি তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসে। আমরা আশা করি, এই মামলার রায়ে জনগনের আশা সর্বোচ্চ শাস্তির প্রতিফলন হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর আমরা এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।
আদালত প্রাঙ্গনে কথা হয় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইসহাক আলীর বড় ভাই নুর মোহাম্মদের সঙ্গে। তিনি জানান, আমার ভাই নিরপরাধ। আমার ভাই জবানবন্দিও দেয় নি। জবানবন্দি দিয়েছে মাসুদ রানা। আমার এলাকার কিছু লোক তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসিয়েছে। একই দাবি করেন ইসহাকের বোন সাহিদা বেগম।
রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম রাজু জানান, এটি একটি যুগান্তকারী রায়। এই রায়ের মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আশা করি, আদালত যাকে খালাস দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ রায়ের কপি পাওয়ার পর সে ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করবে।
আদালত সূত্র জানায়, এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত আসামি সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ মন্ডল সাফাই সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের জবানবন্দি ও সাক্ষিদের দেয়া বয়ান পড়ে শোনান বিচারক।
৬ ফেব্রুয়ারি মামলার চার্জশিট প্রদানকারী কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুল কাদির জিলানীর সাক্ষ্য ও জেরার মধ্যদিয়ে বাদি পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। ১০ দফায় মোট ৫৫ জন সাক্ষী আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে আরো জানা গেছে, গত বছর ১৫ নভেম্বর এই আদালতে ৭ উগ্রবাদির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন বিচারক। ওই দিন ৪ জানুয়ারি এই মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এরপর ৯ দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই মামলায়  গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৩ জন তাদের নিজস্ব আইনজীবী অ্যাডভোকেট আফতাব হোসেন এবং বাকী ৪ জনের জন্য স্টেট ডিফেন্স হিসেবে আবুল হোসেন ও আলাউদ্দিন আহাম্মেদকে নিয়োগ করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, এর আগে গত বছর ১০ নভেম্বর একই আদালতের একই বিচারক মামলাটির চার্জ গঠনের দিন ধার্য করেছিলেন ১৫ নভেম্বর। আদেশ দিয়েছিলেন আসামিপক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবির এক আদেশে স্পেশাল জজ আদালতে বিচারের জন্য মামলাটি স্থানান্তর করেন।
১৩ অক্টোবর রংপুর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিচারক আরিফুল এক আদেশে জজ ও দায়রা আদালতের বিচারকের কাছে মামলাটি স্থানান্তরের আদেশ দিয়েছিলেন। ৭ আগস্ট রংপুর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফুর রহমানের আদালতে জাপানিনাগরিক হোসি কোনিও হত্যাকাণ্ডের ১০ মাস ৭ দিন পর ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।
এরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জমিয়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর কিলিং মিশনের লিডার ও সদস্য।
চার্জশিটভূক্ত জেএমবি কিলিং স্কোয়াড লিডার পীরগাছার মাসুদ রানাকে গ্রেফতারের পর সে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের সবকিছু উম্মোচন করে দিয়ে জানায় মাসুদ রানা নিজেই হোসিও কোনিকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় অপর জেএমবি সদস্য বিজয়ও তার সাথে ছিল। পরে তারা হাসান নামের এক জেএমবি সদস্যের মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
এই মামলায় জেএমবি সদস্য বিজয়ের পুর্নাঙ্গ নাম ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহিত দেয় পুলিশ। এ ছাড়াও এই মামলায় দুই দফায় ২৫ দিনের রিমান্ডে থাকা হোসিও কোনির ব্যবসায়িক পার্টনার হুমায়ুন কবির হিরা, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন খান সোহেলের ছোট ভাই চট্রগাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গ্রেফতার করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া রাশেদ উন নবী খান রুবেল, চাঁপাইনবাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হওয়া ও রিমান্ডে নেয়া রংপুর মহানগর যুবদলের সদস্য রাজিব হাসান সুমন ওরফে মেরিল সুমন, যুবদলের সদস্য নওশাদ হোসেন রুবেল ওরফে কালা রুবেল এবং কাজল চন্দ্র বর্মন ওরফে কাজলকে অব্যাহতি দেয় আদালত।
এ ছাড়াও পুলিশ এই মামলায় গ্রেফতার করা দুই দফায় ২৫ দিনের রিমান্ডে থাকা হোসিও কোনির ব্যবসায়িক পার্টনার হুমায়ুন কবির হিরার স্ত্রী সুলতানা আখতার, শ্যালক তিতাস, রিকশাচালক মোন্নাফ, ভাড়াবাসার মালিক জাকারিয়া বালা, ঘাসের খামারের শ্রমিক আব্দুর রশিদ ও আবেদ আলী, রাজশাহী থেকে আটককৃত দুই ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা ও পাবনা থেকে আটককৃত হীরার খালাতো ভাই সুইটকে অব্যাহতি দেয়।
মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা ও চার্জশিট প্রদানকারী কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী জানান, ঘটনার ৯ মাস ৯ দিন পর পূর্ন তদন্ত করে গত বছর ১১ জুলাই আমরা আদালতে চার্জশিট দাখিল করি। ৭ আগস্ট আদালত আমাদের চার্জশিট আমলে নেন।
এই মামলায় বিভিন্ন সময় ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে এখন ৫ জন কারাগারে আছে। তারা হচ্ছেন- চার্জশিটভুক্ত গ্রেফতারকৃত আসামী উগ্রবাদি জঙ্গি জেএমবির উত্তরাঞ্চলের স্কোয়াড লিডার মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, লিটন মিয়া, আবু সাঈদ, সাখাওয়াত হোসেন। চার্জশিটভুক্ত ৮ জনের মধ্যে রাজশাহীতে নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এবং সাদ্দাম হোসেন ঢাকায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। আর অপর চার্জশিটভূক্ত রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথী আহসান উল্লাহ আনছারী এখনও পলাতক আছে।
এ ছাড়াও বিজয়ের কোনো নাম ঠিকানা ও ট্রেস না পাওয়ায় তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়। এই মামলার তদন্ত ও চার্জশিট দিতে পেরে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমি গর্বিত। আশা করি, রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টিই উঠে আসবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০ টায় রংপুর মহানগরীর উপকণ্ঠ কাউনিয়া উপজেলার কাচু আলুটারী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন হোসি। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানার ওসি বাদি হয়ে ৩ অজ্ঞাত ব্যাক্তির নামে মামলা করে। ময়নাতদন্ত শেষে হোসিও কোনির লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে রাখা হয়।
লাশ ঢাকা ও জাপানে নিয়ে যাওয়া নিয়ে নানা নাটকিয়তার পর কঠোর গোপনিয়তার মধ্যে ১১ দিনের মাথায় ওই বছর ১২ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে মুন্সিপাড়া কবরস্থানে মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক দাফন করা হয়।
হোসিও কোনি ২০১৫ সালের ১৪ মে এক বছরের ভিসা নিয়ে রংপুর আসেন এবং তার জাপানি বন্ধু জাকারিয়া বালার রংপুর মহানগরীর মুন্সিপাড়ার বাড়ির দোতালায় পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন।
২০১৫ সালের ২৭ রমজান তিনি বাড়ি লাগোয়া কাদেরিয়া মসজিদের ঈমাম সিদ্দিক হোসেনের কাছে মুসলমান হয়েছিলেন। মুসলমান হওয়ার পর তার নাম রাখা হয়েছিল গোলাম কিবরিয়া। রংপুরে এসে তিনি নগরীর পানির ট্যাংক এলাকার রজব আলীর পুত্র হুমায়ুন কবির হীরাকে নিয়ে কাউনিয়ার কাচু আলুটারিতে শাহ আলমের দুই একর জমি লিজ নিয়ে কোয়েল ঘাসের খামার তৈরি করে তা দেখাশুনা করতেন। কয়েকবছর আগেও তিনি রংপুর এসে ওই বাড়িতে ছয়মাস পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন বলেও জানায় পুলিশ।
সূত্র জানায়, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর সরকারী এবং প্রশাসনের লোকজন এর দায়ভার বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে। গ্রেফতারও করা হয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের ছোট ভাই রংপুর মহানগর যুবদল নেতা ও চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাশেদ উন-নবী খান বিপ্লবসহ একাধিক যুবদলের নেতাকর্মীকে।
পরে জেএমবির কিলিং মিশনের লিডার মাসুদ রানা গ্রেফতার হওয়ার পর তার স্বীকারোক্তি পেয়ে তারা তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। একে একে আসতে থাকে এই হত্যাকান্ডসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন হত্যাকান্ডে জেএমবির মিশনের চাঞ্ছল্যকর তথ্য। পুলিশ অভিযুক্ত ৫ খুনিকে গ্রেফতারও করতে সক্ষম হয়। বাকী পলাতক রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আনছারুল্লাহকেও পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ বলেন, জাপানি নাগরিক হোসিও কোনি হত্যাকান্ডের ঘটনা তদন্তের বিষয়টি পুলিশের একটি বিরাট সাকসেস। পুংখানুপূংখভাবে মামলাটি তদন্ত করা হয়েছে। এখানে পুলিশের পক্ষ থেকে সকল ধরনের তথ্য-উপাত্ত্ব এভিডেন্স আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত মামলাটির রায় দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। এতে আমরা সন্তুষ্ট।
সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডটির পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে এর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয় বিএনপি, জামায়াত এবং তাদের ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃংখলাবাহিনীর তরফে। কিন্তু জেএমবির কিলিং লিডার মাসুদ রানা গ্রেফতার হয়ে স্বীকারোক্তি দিলে তদন্ত সঠিকপথে এগুতে থাকে। অব্যাহতি দেয়া হয় বিএনপিনেতাসহ বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়া ২৫ জনকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ