• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন |

নিকরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের নিকরদিঘী (নান্দুলা) উচ্চ বিদ্যালয়ে পর পর ২ বার দ্বায়িত্ব পালনকারী সাবেক সভাপতি আজিজার রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় ২১ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ১৯৪৪ সালে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান মৃত হাজী ছমির উদ্দিন নিভৃত পল্লীর ছেলে-মেয়েদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে তার নিজ গ্রামে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠাটি স্থাপন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর যেন বিদ্যালয়টি পরিচালনায় কোন সমস্যা না ঘটে এ কারণে তিঁনি ২১ বিঘার ১টি পুকুর ও প্রায় ৩০ বিঘা জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেন।
প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরিত অভিযোগ সুত্রে এবং সরেজমিনে এলাকার বয়ষ্ক লোকজনের মাধ্যমে জানাযায় হাজী সমির উদ্দিনের মৃত্যুর পর পুকুর ও জমি থেকে যে অর্থ আয় হয় তার উপর স্কুল কমিটির সদস্যদের মধ্যে লোভ বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ দুই বারের দ্বায়িত্ব পালন করা সাবেক সভাপতি আজিজার রহমান গত ২০১৩ সালে পুকুর লিজের ২৫ লাখ ৯০ হাজার ও ২০১৬ সালের পুকুর লিজের ১৯ লক্ষ টাকা সর্বমোট ৪৪ লক্ষ ৯০ টাকার বিদ্যালয়ের তহবিলে আংশিক কিছু টাকা জমা দেয়। এবং বাঁকি টাকা সাবেক সভাপতি আজিজার রহমান আত্মসাত করেন। এছাড়া তিনি গত ৩ বছরে ৪ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রায় ২১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এসব নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকের মধ্যে ৩ জনই তার পরিবারের সদস্য পুত্র ও পুত্রবধু। তার পরিবারের ৩ জন সদস্যকে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়ায় নিজ ক্ষমতায় নিয়োগ দিয়েছে বলে জানাগেছে। যা নিয়োগ বিধিমালায় নিয়ম বর্হিভূত। আরো জানাগেছে, পরিবারের লোকের নিকট থেকে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য কোন অর্থ না নিলেও বাঁকী শিক্ষকদের নিকট থেকে ঠিকই অর্থ গ্রহন করেন, অথচ সে অর্থের কোন হিসাব আজও বিদ্যালয়ে দেননি তিনি। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, আব্দুল আলিমের নিকট থেকে ৫ লাখ, সাইদুর রহমানের ১ লাখ, আরমানের ১ লাখ ১৫ হাজার, হরেন দাসের ৯৫ হাজার, অফিস সহকারী এনামুল হকের ৯ লাখ ও পিয়ন আবুল বাশারের কাছে ৪ লাখ টাকা আদায় করেছেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক মোঃ কবির উদ্দিনের কাছে জানতে চইলে তিনি জানান, সাবেক সভাপতি নিয়োগকৃত শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অযুহাতে টাকাগুলো নিয়েছেন। বিদ্যালয়ের গেট নির্মানের জন্য ৪ লক্ষ এবং মসজিদ নির্মানের জন্য  টাকা ১১ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার বিল ভাউচার সে প্রতিষ্টানে জমা দেননি। এ বিষয়ে সাবেক সভাপতি আজিজার রহমানের কাছে অর্থ আত্মস্বাথের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন টাকা মারে খাইনি। সব টাকা বিদ্যালয়ের কাজে ব্যয় করেছি। আমার দ্বারা খরচের টাকার হিসাব বাড়ির খাতায় লেখা আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ