• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন |

ঘটনাস্থল বোচাগঞ্জ: ধর্মীয় মত পার্থক্যের কারনেই জোড়া খুন

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের দৌলা গ্রামে গত ১৩ মার্চ রাতে কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরীসহ দু’জনকে গুলি করে হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যার সাথে জড়িত ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর গুরু কুড়িগ্রামের কথিত পীর ইসহাক আলী ও ফরহাদ চৌধুরীর দরবার শরীফের খাদেম সাইদুর রহমান। পুলিশের হাতে আটক উভয়ে হত্যার দায় করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পীর ইসহাক আলীর মুরিদ ছিলেন ফরহাদ চৌধুরী। গুরু-শিষ্যের ত্বাত্বিক ও আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ মার্চ) রাতে দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. হামিদুল আলম তাঁর নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। পুলিশ সুপার  জানান, কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি গ্রামের পীর আজিম উদ্দিনের ছেলে ইসহাক আলীর দরবারে হত্যার পরিকল্পনা হয় এবং পর দিন ১৩ মার্চ রাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা গ্রামের কাদেরিয়া দরবার শরীফে কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী ও তাঁর গৃহপরিচারিকা রুপালী বেগমকে হত্যা করা হয়।
কিলিং মিশনে ৭জন অংশ নেয়। নিহত ফরহাদ চৌধুরী ও রুপালীকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে নিস্তেজ করার পর গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে খুনিরা। হত্যায় অংশ নেয়া অপর ৫জনকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে বলে পুলিশ সুপার জানান।
এদিকে বোচাগঞ্জে কথিত পীর ফরহাদ চৌধুরীসহ দু’জনকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আটক পীর ইসহাক আলী ও খাদেম সাইদুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুরের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এফএম আহসানুল হক’র আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন আটক হওয়া ফরহাদ চৌধুরীর গুরু ইসহাক আলী ও বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা নামক এলাকায় কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফের প্রধান খাদেম সাইদুর রহমান।
ইসহাক আলী কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি গ্রামের পীর আজিম উদ্দিনের ছেলে ও খাদেম সাইদুর রহমান বোচাগঞ্জের দৌলা গ্রামের মৃত ফয়জুল হকের ছেলে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ সোমবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা গ্রামে কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী ও তার পালিত মেয়ে রুপালী বেগম গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ফরহাদ হোসেন চৌধুরী দিনাজপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন। পরে ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই হত্যা ঘটনায় ১৪ মার্চ রাতে (তারিখ ১৪-০৩-১৭, মামলা নং-০৫) বোচাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত ফরহাদ চৌধুরীর মেয়ে ফাতিহা ফারহানা চৌধুরী। পুলিশ হত্যা তদন্তে সন্দেহজনকভাবে আগেই কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে পীর ইসহাক আলী ও খাদেম সাইদুর রহমান বোচাগঞ্জের দৌলা গ্রামের মৃত ফয়জুল হকের ছেলেকে আটক করে।
ধর্মীয় দৃষ্টি ভঙ্গী নিয়ে পীর ইসহাক আলী ও শিষ্য ফরহাদ চৌধুরীর মধ্যে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়। ইর্ষান্বিত হয়ে ইসহাক আলী শাহ্ বোচাগঞ্জ থানার রামপুর গ্রামে প্রথকভাবে নতুন দরবার চালু করে। আর এর জের ধরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘঠে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ